[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ভারতের ওপর বাড়তে পারে বাংলাদেশের বাণিজ্যনির্ভরতা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
Icon

ভারত থেকে পণ্য
আমদানি (কোটি ডলার)

২০২৪-২৫
১৫৫.৫৬
২০২৩-২৪
৯০০

সূত্র : বাংলাদেশ ব্যাংক

জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভারতের কাছে বাড়তি ডিজেল আমদানির প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। আজ আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশে আসছে পাঁচ হাজার টন ডিজেল।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে অন্য খাতগুলোতেও ভারতের ওপর বাংলাদেশের বাণিজ্য নির্ভরতা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যুৎ

বিদ্যুতের মোট চাহিদার ১৮ শতাংশ ভারত থেকে আমদানি

আদানির সরবরাহ

প্রায় ১৪৬০ মেগাওয়াট

জিটুজি চুক্তির আওতায়

১০৬০ মেগাওয়াট

*৯ মার্চের বিদ্যুৎ চাহিদা ও সরবরাহের প্রতিবেদন অনুযায়ী

জ্বালানি তেল

পাইপলাইনের মাধ্যমে বার্ষিক আমদানি চুক্তি

১ লাখ ৮০ হাজার টন

*আইওসিএলের সঙ্গে জিটুজি চুক্তির আওতায় আমদানি

১ লাখ ৫ হাজার টন

*২০২৬ সালের প্রাক্কলন

সূত্র : বিপিডিবি ও বিপিসি

 

দুই দেশের মোট বাণিজ্যের ৮৫ শতাংশই মূলত ভারত থেকে আসে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভারত থেকে বাড়তি ডিজেল আনার প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। আসামের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে পাঁচ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, এই জ্বালানি পাইপলাইনের মাধ্যমে আনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি জমা আছে। বাজারের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়মিত দেখাশোনা করা হচ্ছে। জ্বালানি তেল, গ্যাস ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহের পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি পণ্যের পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের সংকটও দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত থেকে ৯৫৫ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ ছিল ৯০০ কোটি ২ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। ভারত থেকে আমদানির মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আসে তুলা। এ ধরনের পণ্যে বিশ্বজুড়ে এখনো কোনো সংকট দেখা দেয়নি। এছাড়া ভারত বাংলাদেশে খাদ্যপণ্যের বড় জোগানদাতা। জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্বে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জাহাজ ও বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। এই পরিস্থিতি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নানা ধরনের সমস্যার মুখে ফেলতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ আমদানি তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে যে পণ্যগুলো বেশি আনা হয়, সেগুলোর আমদানি বাড়ছে। ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর তিন মাসের তুলনায় অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে ভারত থেকে আমদানি বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তুলা, দানাদার খাদ্যশস্য, রেল ও ট্রাম ছাড়া অন্যান্য যানবাহন ও সেগুলোর যন্ত্রাংশ এবং খনিজ জ্বালানি ও খনিজ তেলজাত পণ্য। তুলার আমদানি বেড়েছে ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং দানাদার খাদ্যশস্যে ৩১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। রেল ও ট্রাম ছাড়া অন্যান্য যানবাহন ও যন্ত্রাংশের আমদানি সামান্য বেড়েছে। খনিজ জ্বালানি, খনিজ তেল, বিটুমিন ও খনিজ মোমের আমদানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ।

এ বিষয়ে ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য সংকট দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এই সংকটের প্রভাবে দুই দেশের ব্যবসায়িক সুযোগ বাড়তে পারে। ভারত যেকোনো পণ্য রপ্তানি করার আগে তাদের নিজস্ব চাহিদার কথা বিবেচনা করবে। তবুও বলা যায়, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরালো হবে।’

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন থাকলেও তার প্রভাব বাণিজ্যে পড়েনি। গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ভারত থেকে আমদানিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। অর্থ বিভাগ থেকে প্রকাশিত 'বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫' থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রধান আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে ভারত থেকেই গত অর্থবছরে আমদানি ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি হয়েছে, যার হার ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ভারত থেকে সরকারি পর্যায়ে কেনাকাটা বাড়ায় এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

বিশ্ব পরিস্থিতি বা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে কি না—এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, 'ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য কতটা বাড়বে বা আদৌ বাড়বে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সাময়িকভাবে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য কিছুটা বাড়তে পারে। কারণ ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করছে। এই সংকটের কারণে বাংলাদেশও ভারত থেকে তেল আমদানি বাড়াতে পারে। একইভাবে নিত্যপণ্য ও তুলা আমদানির সুযোগও বেড়েছে।'

শিল্পায়ন, রপ্তানিমুখী উৎপাদন ও নিত্যপণ্যের চাহিদা মেটাতে প্রতিবছর বাংলাদেশকে প্রচুর পণ্য আমদানি করতে হয়। টাকার অঙ্কে বাংলাদেশের আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস চীন, আর দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস হলো ভারত।

ভারতের ওপর বাণিজ্যের নির্ভরশীলতা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, 'জ্বালানি আমাদের জন্য একটি কৌশলগত বিষয়। এর প্রয়োজন খুবই জরুরি। পেঁয়াজ যেমন দরকারি, জ্বালানিও তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে উভয়ের জন্য লাভজনক জায়গা থেকে দেখলে জ্বালানি একটি বড় ক্ষেত্র। তবে জ্বালানির চেয়ে প্রতিবেশী হিসেবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকেই আমি বড় করে দেখতে চাই।'

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ায় দেশে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ।

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভারতের ওপর বাংলাদেশের বড় নির্ভরতা রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদার প্রায় ১৮ শতাংশ আসছে ভারত থেকে। এছাড়া ডিজেল, ফার্নেস অয়েল, উড়োজাহাজের জ্বালানি ও অকটেনও আমদানি করা হচ্ছে। ২০২৬ সালে ভারত থেকে প্রায় তিন লাখ টন জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তির আওতায় ২ হাজার ৭৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে।

দেশে প্রতি বছর শোধিত ও অশোধিত মিলিয়ে ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ভারত থেকে পাইপলাইন ও সমুদ্রপথে প্রায় তিন লাখ টন তেল আসে। আসামের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির চুক্তি রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পাইপলাইনে চুক্তির বাইরে আরও ৫০ হাজার টন বাড়তি ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা করছে জ্বালানি বিভাগ। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে, যা আগামী দু-এক দিনের মধ্যে ভারতকে দেওয়া হতে পারে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ভারত থেকে বাড়তি ডিজেল আমদানির বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে পাইপলাইনের মাধ্যমে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির চুক্তি আছে। আমরা আরও ৫০ হাজার টন বাড়তি আনার পরিকল্পনা করছি। দু-এক দিনের মধ্যে এই প্রস্তাব দেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের চুক্তি অনুযায়ী ডিজেল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ২০ হাজার টন। এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৯০ হাজার টন আমদানির চুক্তি থাকলেও এ সময়ে অতিরিক্ত আরও ৩০ হাজার টন আনার পরিকল্পনা আছে। এছাড়া জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও ৯০ হাজার টন ডিজেলের পাশাপাশি আরও ৩০ হাজার টন বাড়তি আমদানির লক্ষ্য রয়েছে। বিপিসির হিসাবে, চলতি বছরে দুই ধাপে চুক্তির পুরোটার পাশাপাশি আরও ৬০ হাজার টন বাড়তি ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিপিসির জ্বালানি তেল আমদানির সরকারি চুক্তিতে রয়েছে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (আইওসিএল)। ২০২২ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে আইওসিএলের কাছ থেকে ১ লাখ ৫ হাজার টন শোধিত জ্বালানি আমদানির লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার টন ডিজেল, ১০ হাজার টন উড়োজাহাজের জ্বালানি, ৫০ হাজার টন ফার্নেস অয়েল ও ২৫ হাজার টন অকটেন রয়েছে। এই জ্বালানি তেল মূলত জাহাজের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

বিপিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের উত্তরাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের জন্য চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে চার কিস্তিতে ২০ হাজার টন অথবা পাঁচ কিস্তিতে মোট ২৫ হাজার টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া দূরত্ব ও সময় বিবেচনায় আইওসিএলের কাছ থেকে সমুদ্রপথে মার্চ ও এপ্রিলের জন্য আরও ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাবের পরিকল্পনা রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘৫০ হাজার টন বাড়তি ডিজেল আমদানির প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এই জ্বালানি তেল মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে বিপিসি আশা করছে। এরই মধ্যে ভারতের সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে বলেছে। প্রস্তাব পেলে তারা বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে আমাদের জানিয়েছে।’

জ্বালানি তেলে নির্ভরতা তুলনামূলক কম হলেও বিদ্যুৎ খাতে ভারতের ওপর বড় নির্ভরতা রয়েছে বাংলাদেশের। বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ১৮ শতাংশের বেশি সরবরাহ আসে ভারত থেকে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিদ্যুৎ খাতে ভারতের সরকারি পর্যায় এবং বেসরকারি আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে মোট ২ হাজার ৭৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে আদানির সঙ্গে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট এবং ভারত সরকারের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে।

বর্তমানে সন্ধ্যায় চাহিদার সর্বোচ্চ সময়ে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। এই চাহিদার ২ হাজার ৫২০ মেগাওয়াট আসছে ভারত থেকে, যা মোট চাহিদার ১৮ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে আদানি সরবরাহ করছে ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৪৭০ মেগাওয়াট পর্যন্ত। আর ভারতের সরকারি পর্যায় থেকে আসছে ১ হাজার ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

গত ৮ মার্চ অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। ওই বৈঠক প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে আর্থিক খাত, ডিজিটাল অর্থনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টি উঠে আসে। এছাড়া দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক কীভাবে আরও গভীর করা যায়, সে বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়। ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ সম্ভাব্য সব ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও এ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে। মূলত দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ফিরিয়ে আনাই এর লক্ষ্য।’ 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন