নওগাঁয় কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি, আম ও বোরো চাষিদের স্বস্তি
![]() |
| মুকুল আর আমের গুটিতে ছেয়ে গেছে আমগাছ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভিজেছে গাছ। নওগাঁ পৌরসভার শিবপুর এলাকার একটি বাগানে তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
আমের মুকুল আসার পর থেকে অনাবৃষ্টি ও খরায় দুশ্চিন্তায় ছিলেন নওগাঁর আম ও বোরো চাষিরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফাল্গুনের বৃষ্টি তাঁদের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। বৃহস্পতিবার সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হয়েছে। এতে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন কৃষকেরা।
সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘণ্টা নওগাঁয় বৃষ্টি হয়েছে। এতে গাছপালায় জমে থাকা ধুলাবালু ধুয়ে গেছে। কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকেরা বলছেন, এই সময়ের বৃষ্টি আমসহ অন্য ফসলের জন্য খুবই উপকারী।
নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক হামিদুর রহমান জানান, সকালে আড়াই ঘণ্টায় জেলায় ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে জেলায় সর্বশেষ বৃষ্টি হয়েছিল। প্রায় চার মাস পর চলতি বছরে এই প্রথম বৃষ্টির দেখা মিলল।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর প্রায় ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমবাগান আছে। এর মধ্যে সাপাহার ও পোরশা উপজেলাতেই রয়েছে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর আমবাগান। চলতি মৌসুমে জেলায় বোরো ধান আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে।
কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, অনাবৃষ্টির কারণে আমের মুকুল ও গুটি ঝরে পড়ার আশঙ্কা ছিল। আবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ডিজেল সংকটে অনেক বোরোখেতে সময়মতো সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এতে অনেক জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গিয়েছিল। এই বৃষ্টিতে সেই সংকট কিছুটা কাটবে বলে আশা করছেন তাঁরা। গম, সবজিসহ অন্যান্য রবিশস্যের জন্যও এই বৃষ্টি আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বদলগাছী উপজেলার চাংলা এলাকার আমচাষি আহসান আবিব বলেন, খরার কারণে অনেক আমের গুটি ঝরে পড়ছিল। বৃষ্টির কারণে গাছ ধুয়ে গেছে এবং গুটি ঝরে পড়া কমবে। এখন কয়েক দিন আর বালাইনাশক দিতে হবে না। বৃষ্টিতে আমের বোঁটা শক্ত হবে এবং আকারও ভালো হবে। এতে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অনাবৃষ্টির কারণে আমের মুকুল ঝরে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় ছিলেন দুবলহাটি এলাকার আমচাষি নূর আলম। তিনি বলেন, বৃষ্টিতে গাছের অনেক রোগবালাই দূর হয়ে গেল। সেই সঙ্গে গাছের গোড়ায় সেচও হয়ে গেছে। এই বৃষ্টি আমের গুটি ধরে রাখতে ও ফলন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিয়ামতপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, তিনি ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গভীর নলকূপ থেকে সময়মতো পানি না পেয়ে জমির মাটি ফেটে গিয়েছিল। এই বৃষ্টিতে কয়েক দিন আর সেচের প্রয়োজন হবে না।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হুমায়রা মণ্ডল বলেন, এই বৃষ্টি আম, লিচুসহ সব ফসলের জন্যই উপকারী। বোরোখেতে সেচ সংকট কিছুটা কমবে। পাশাপাশি গম, সবজি ও অন্যান্য রবিশস্যের জন্যও এটি ভালো হয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টি হলে আলুখেতে সমস্যা হতো।

Comments
Comments