রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পথ খুলল
![]() |
| প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং |
রাষ্ট্রীয় নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব জাতিসংঘে গৃহীত হয়েছে। নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সনদের ১৪ (১) অনুচ্ছেদের বিষয়ে বাংলাদেশের দেওয়া ঘোষণাপত্র (ডিক্লারেশন) প্রত্যাহারের এই প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার সংবাদ শাখা (প্রেস উইং) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
গত ২৯ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে এই ঘোষণাপত্র প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
নির্যাতনবিরোধী এই আন্তর্জাতিক সনদটি ১৯৮৪ সালে গৃহীত হয়। বর্তমানে ১৭৩টি দেশ এই সনদ সমর্থন করেছে। বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে এই সনদে যোগ দেয়।
সনদের ১৪ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ মোট পাঁচটি দেশ চুক্তিতে যোগদানের সময় একটি সংরক্ষণী শর্ত (রিজার্ভেশন) দিয়েছিল। এই শর্তের কারণে এত দিন রাষ্ট্রীয় নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায্য ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল না।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এখন এই শর্ত প্রত্যাহারের ফলে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পাওয়ার পথ সুগম হলো। এর ফলে নির্যাতনের কারণে ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরাও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন।
উপদেষ্টা পরিষদের মতে, এই সিদ্ধান্ত একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বাড়বে। এটি বাংলাদেশের মানবাধিকারকর্মীদের প্রায় দুই দশকের দাবি ছিল।

Comments
Comments