[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি: অন্তর্বর্তী সরকার

প্রকাশঃ
অ+ অ-

শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস  ও লাঠিপেটা করতে দেখা গেছে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। 

এই ঘটনা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সরকারের সেই বিবৃতিটি নিচে তুলে ধরা হলো:

শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শুরুতে বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করেনি।

৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শব্দবোমা ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ধরনের গুলি চালায়নি।

জনসাধারণের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও জমায়েত নিষিদ্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইন অনুযায়ী বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। এ সময় কোনো ধরনের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে তাঁদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।

সরকার আবারও স্পষ্টভাবে বলছে যে, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনি দিকগুলো সরকার গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে। এ বিষয়ে আগামী রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।

বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয়।

সামনে নির্বাচন থাকায় এই সংবেদনশীল সময়ে সরকার সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ এই নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টিও এখন বাংলাদেশের দিকে। অনেক বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতিমধ্যে বাংলাদেশে এসেছেন।

একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার সব নাগরিকের সহযোগিতা কামনা করছে। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এই নির্বাচনী সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে শেষ করতে হবে। এ লক্ষ্যে যেকোনো ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, সবার দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য ও সফল নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন