প্রথম গ্যাস না থাকায় প্রথম সেহরিতেই ভুগলেন নগরবাসী
![]() |
| গ্যাস সরবরাহ | প্রতীকী ছবি |
রোজার প্রথম সেহরিতেই গ্যাসের তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জবাসী। রোজা শুরুর আগের দিন বুধবার দুপুর ২টা থেকে প্রথম সেহরির শেষ সময় ভোর ৪টা ১০ মিনিট পর্যন্ত নগরীর বিশাল এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। ফলে অনেক পরিবার সেহরির খাবার তৈরি করতে পারেনি; বাধ্য হয়ে কেউ শুকনো খাবার খেয়ে আবার কেউ শুধু পানি খেয়ে রোজা রেখেছেন।
নগরীর আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বুলবুল আহমেদ ভুঁইয়া জানান, তিতাসের ঘোষণা অনুযায়ী রাত ১০টায় গ্যাস আসার কথা ছিল। কিন্তু ভোর ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও গ্যাসের দেখা মেলেনি। শেষ মুহূর্তে গ্যাস এলেও তখন আর রান্না করার সময় ছিল না। ফলে পরিবারের সবাইকে শুকনো খাবার ও ফল খেয়ে রোজা রাখতে হয়েছে।
একই অভিজ্ঞতা আল্লামা ইকবাল রোডের বাসিন্দা সানজানা তুলির। তিনি জানান, রাত ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে গ্যাস না পেয়ে হোটেলে খাবার কিনতে গিয়ে দেখেন সেখানেও খাবার শেষ। পরে নিরুপায় হয়ে এক আত্মীয়ের বাসায় বৈদ্যুতিক চুলায় (ইন্ডাকশন) রান্না করে সেহরি সারতে হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চবটি, ফতুল্লা, দেওভোগ, মাসদাইর, ইসদাইর, বাবুরাইল, পাইকপাড়া, নগর খানপুর, চাষাঢ়া, তল্লাসহ পুরো সদর উপজেলায় একই পরিস্থিতি ছিল বলে জানা গেছে। গ্যাস না থাকায় প্রথম সেহরিতে লাখো মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এলাকাভেদে মাইকিং করে বিষয়টি না জানানোয় অনেকেই প্রস্তুতির সুযোগ পাননি।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নারায়ণগঞ্জ জোনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী রাজিব কুমার জানান, নির্মাণাধীন পঞ্চবটি উড়াল সেতুর পিলার বসানোর সুবিধার্থে জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস পাইপলাইন স্থানান্তরের প্রয়োজন ছিল। উড়াল সেতু কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার দুপুর থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। রাত ১০টার মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও কারিগরি কারণে দেরি হয়। রাত ২টার পর সরবরাহ ধীরে ধীরে চালু করা হয়। মাইকিং না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পত্রিকা ও টেলিভিশনের মাধ্যমে গ্রাহকদের আগে থেকেই অবগত করা হয়েছিল।

Comments
Comments