[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

এক মাস পেরিয়ে গেলেও গঙ্গা-কপোতাক্ষ খালে পানি নেই, অনিশ্চয়তায় চাষিরা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
পানিশূন্য গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের খাল | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

পানি ছাড়ার সময়সীমা এক মাস পেরিয়ে গেলেও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প গঙ্গা-কপোতাক্ষের (জিকে) খালে এখনো পানি আসেনি। ফলে রবি মৌসুমের চাষিরা সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বোরো চাষিদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের দাবি, রক্ষণাবেক্ষণ ও খননকাজের (ড্রেজিং) দেরি হওয়া এবং সঠিক সময়ে বরাদ্দ না পাওয়ায় পানি ছাড়তে দেরি হচ্ছে।

জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী ১৫ জানুয়ারি সেচ প্রকল্পের আওতায় থাকা সব খালে পানি আসার কথা ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখ পার হয়ে গেলেও খালের বুক এখনো শুকনো।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, জিকে সেচ খালের পানি দিয়ে চাষাবাদ করতে বিঘা প্রতি খরচ হয় মাত্র ৩০০ টাকা। অন্যদিকে ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র (শ্যালো ইঞ্জিন) দিয়ে চাষাবাদে খরচ হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। বাড়তি এই খরচের কারণে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকছে। অনেকে বিকল্প ফসলের চিন্তা করলেও তাতে খরচ বেশি ও ফলন কম হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জিকে সেচ প্রকল্পের আওতায় ৪ জেলার ১৩টি উপজেলার প্রায় পৌনে ৫ লাখ একর জমি রয়েছে।

চাঁদগ্রাম অঞ্চলের কৃষক আলী হোসেন জানান, পানির অভাবে এবার বাধ্য হয়ে সরিষা চাষ করতে হয়েছে। অনেকে ধান চাষ না করে গম বুনেছেন। দ্রুত পানি না এলে সামনের বোরো মৌসুমে কৃষকদের চরম বিপাকে পড়তে হবে। কৃষক শের আলী খাঁ বলেন, কয়েক বছর ধরে সঠিক সময়ে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এত টাকা খরচ করে আবাদ করা অসম্ভব।

ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা জানান, এই প্রকল্পের আওতায় উপজেলার চাঁদগ্রাম ও বাহিরচর ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার ৫৩০ হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৬৩৫ হেক্টরে বোরো, ১২০ হেক্টরে সরিষা ও ৭০০ হেক্টরে গমের আবাদ হয়েছে। তিনি আরও জানান, কয়েক বছর ধরে পানি অনিয়মিত হওয়ায় কৃষকদের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বিএডিসি সেচ প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে।

ভেড়ামারার জিকে পাম্প হাউসের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, সাধারণত ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সেচ কার্যক্রম চলে। বছরের অন্য সময় পাম্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও খননকাজ চলে, যা এবার সময়মতো শেষ হয়নি। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেতেও দেরি হয়েছে। তিনি জানান, এই প্রকল্প পদ্মার পানির ওপর নির্ভরশীল। সেচ পাম্প চালানোর জন্য পানির স্তর ৫ মিটার থাকতে হয়, যা বর্তমানে আছে। খুব দ্রুতই সেচ কার্যক্রম চালু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভেড়ামারা ও মিরপুর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর জানান, জিকে খালে পানি সরবরাহের বিষয়ে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা দ্রুত পানি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন