[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

রাজশাহীতে গরুর মাংসের দামে ‘আগুন’, কেজিতে বাড়ল ৫০ টাকা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
রাজশাহীতে রোজার আগেই গরুর মাংসের দাম বেড়েছে। ইতিমধ্যে বাড়তি দামের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। আজ বুধবার সকালে রাজশাহীর নিউমার্কেট এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন   

রাজশাহীতে রোজা শুরুর আগেই গরুর মাংসের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে ইতিমধ্যে বাড়তি দামের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। বুধবার সকালে রাজশাহীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দামের এই চিত্র দেখা গেছে।

বর্তমানে প্রতি কেজি মাংস ৭৫০ টাকার বদলে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাহেব বাজার ও নিউমার্কেটের মধ্যে দামের পার্থক্য কেজিতে প্রায় ২০ টাকা। বিক্রেতাদের দাবি, তাঁরা নিজেরাও বেশি দামে গরু কিনছেন।

নগরের নিউমার্কেটের পাশের দোকানগুলোতে এখন সাইনবোর্ড ঝুলছে। সেখানে লেখা, ‘গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা।’ সারিবদ্ধ ৪-৫টি দোকানের সবখানেই একই দৃশ্য।

দোকান মালিক মনিরুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার থেকে তাঁরা এই নতুন দামে মাংস বিক্রি করছেন। তাঁর দাবি, হাটে গরুর দাম অনেক বেড়ে গেছে। পাশাপাশি পশুখাদ্য ও আনুষঙ্গিক খরচও বেড়েছে। একটি খড়ের আঁটি এখন আট টাকায় কিনতে হচ্ছে। এছাড়া সিটি হাটে গরু কিনলে ৮০০ টাকা এবং তানোর চৌবাড়িয়া হাটে ৯০০ টাকা অতিরিক্ত মাশুল (সারচার্জ) দিতে হচ্ছে, যা আগে ছিল ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা।

মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, "আজ যে গরুটি জবাই করেছি, সেটি ১৫ হাজার টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে। আড়াই লাখ টাকা দাম পড়েছে গরুটির।" সাহেব বাজারে দাম কিছুটা কম হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি দাবি করেন, সেখানে ভালো মানের দেশি এঁড়ে গরুর বদলে বকনা বা গাভি গরুর মাংস দেওয়া হয়। এছাড়া ক্রেতারা চর্বি নিতে চান না বলে সেগুলো আলাদা করে রাখতে হয়, যা লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পাইকারি বিক্রেতা একরাম হোসেন জানান, তাঁদের নিজেদেরই ৭৫০ টাকা কেজি দরে মাংস কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে কিছুটা লাভ না করলে টিকে থাকা কঠিন।

বাজারে মাংস কিনতে আসা এক স্কুলশিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রোজায় দাম আরও বাড়তে পারে ভেবে আগেভাগে বেশি করে মাংস কিনতে এসেছিলেন। কিন্তু এসে দেখেন দাম আগেই বেড়ে গেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দাম যখন বাড়লই, তখন আর ফ্রিজে রেখে খাওয়ার দরকার নেই। প্রয়োজনমতো টাটকা মাংসই কিনে খাব।

সাহেব বাজারের বড় দোকানগুলোতেও একই চিত্র। সেখানে প্রতি কেজি মাংস ৭৮০ টাকা। দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে এক দোকানি বলেন, আমরাই তো কম দামে মাংস কিনতে পারছি না।

রাজশাহী জেলার জ্যেষ্ঠ কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন বলেন, গরুর মাংসের দাম ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকার বেশি হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা করে দাম বাড়িয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।

দুপুরে নিউমার্কেটের মাংসের দোকানে অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় একটি দোকানের মালিককে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রমজান মাসে গরুর মাংস ৬৫০ টাকা কেজিতে বিক্রির কথা রয়েছে। ৩ ফেব্রুয়ারি এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রির উদ্যোগ নেওয়ারও নির্দেশনা আছে।

তবে রাজশাহীতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে কি না, তা জানতে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আতোয়ার রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন