বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব আরও গভীর করার আহ্বান ভারতীয় হাইকমিশনারের
![]() |
| অনুষ্ঠানে কথা বলছেন ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী ও গভীর করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে ‘শ্রীরামকৃষ্ণের বিশ্বজনীনতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৯১তম জন্মতিথি উপলক্ষে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে গত মঙ্গলবার থেকে মিশনে চার দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠান চলছে।
প্রণয় ভার্মা বলেন, শ্রীরামকৃষ্ণের আধ্যাত্মিক সাধনা দক্ষিণেশ্বরে হলেও তাঁর দর্শন কোনো নির্দিষ্ট গ্রাম, মন্দির বা দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর শিক্ষা ভৌগোলিক ও ধর্মীয় সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। ‘যত মত তত পথ’—ধর্মের উদারতা নিয়ে তাঁর এই বিশ্বাস সেই সময়ের ধর্মীয় আলোচনাকে আলোকিত করেছে এবং সম্প্রীতি ছড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব যখন আজ বিভাজন ও মেরুকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন শ্রীরামকৃষ্ণের শিক্ষা আমাদের মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার কল্যাণে কাজ করতে এবং শান্তি ও সমঝোতার ভবিষ্যৎ গড়তে উদ্বুদ্ধ করে। তাঁর জীবন আমাদের সরলতা ও আন্তরিকতার পথ দেখায়। তাঁর দর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃত ধর্ম হলো সবাইকে গ্রহণ করা ও মিলেমিশে থাকা; কাউকে আলাদা করা বা বর্জন করা নয়। প্রকৃত ধর্ম হলো পরের সেবা করা, স্বার্থপরতা নয়। সর্বোপরি প্রকৃত ধর্ম হলো ভালোবাসা ও সম্প্রীতি, ঘৃণা ও বিভেদ নয়।
হাইকমিশনার বলেন, শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের এই পবিত্র জন্মবার্ষিকীতে আসুন আমরা তাঁর উদার আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাই, শান্তি ও সম্প্রীতিকে শক্তিশালী করি এবং ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বকে আরও গভীর করি।
ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দজী মহারাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. নুরুজ্জামান এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শিঞ্জিনী সরকারসহ অন্যরা।

Comments
Comments