[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

নাটোরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১৩

প্রকাশঃ
অ+ অ-
নাটোরের বড়াইগ্রামে বিএনপি কর্মীরা জামায়াতের কয়েকজন কর্মীর বাড়িতে হামলা চালায়। শনিবার বেলা ১১টায় উপজেলার ধানাইদহ পূর্বপাড়ায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশির ভাগই জামায়াতের। এ ছাড়া দলটির ছয় নেতার বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ। এ ঘটনায় এক বিএনপি নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বড়াইগ্রাম থানা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ধানাইদহ বাজারে জামায়াত কর্মী সাকিব হোসেন ও বিএনপি কর্মী রাতুল আহম্মেদ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে কিল-ঘুষি মারার ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনা মীমাংসার জন্য সকালে ধানাইদহ বাজারে উভয় পক্ষের মধ্যে সালিস বসার কথা ছিল। বেলা ১১টার দিকে নগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আসাফ সরকারের নেতৃত্বে দলের ৪০–৫০ জন কর্মী ধানাইদহ বাজারে যাচ্ছিলেন। বাজারের পাশের রাস্তায় পৌঁছালে তাঁদের সঙ্গে দেখা হয় নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাসিনুর রহমানের। এ সময় বিএনপি কর্মীরা হাসিনুরের ওপর হামলা চালান। রামদা ও চাপাতির আঘাতে জামায়াতের এই নেতা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে বিএনপি নেতা–কর্মীরা ধানাইদহ পূর্বপাড়ায় গিয়ে জামায়াত সমর্থক ছানোয়ার হোসেন, সৈয়দ ইব্রাহিম হোসেন, আবদুস সোবহান এবং পশ্চিমপাড়ার সিরাজুল ইসলাম, মাসুদ হোসেন ও হাফিজুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এ সময় জামায়াতের সমর্থকেরা বাড়িঘর থেকে বের হয়ে বিএনপি নেতা–কর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এতে বিএনপি নেতা আসাফ সরকার এবং জামায়াত কর্মী সৈয়দ ইব্রাহিম হোসেন, রফিকুল ইসলাম, রায়হানসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন।

আহত ব্যক্তিদের বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি আমেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় জামায়াত নেতা হাসিনুর রহমানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাকিদের বেশির ভাগ চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন।

বেলা দেড়টার দিকে ধানাইদহ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ। বাজারের মোড়ে অর্ধশতাধিক পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। সেখান থেকে ধানাইদহ পূর্বপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, জামায়াত সমর্থক ছানোয়ার হোসেন, তাঁর ভাই সৈয়দ ইব্রাহিম হোসেন ও সোবহানের টিনের বাড়ি তছনছ করা হয়েছে। ঘরের বেড়ার টিন কেটে চূর্ণবিচূর্ণ করা হয়েছে। ছানোয়ারের বাড়ির শয়নকক্ষের রেফ্রিজারেটর, টেলিভিশন, সেলাই মেশিনসহ অন্যান্য আসবাব ও কাপড়চোপড় ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে।

ভুক্তভোগী সৈয়দ ইব্রাহীম আলী জানান, ঘটনার সময় প্রতিপক্ষের লোকেরা কয়েকটি গুলি ছুড়েছেন। তাঁদের হাতে দেশীয় অস্ত্রও ছিল। ছানোয়ার হোসেনের স্ত্রী মনি বেগম বলেন, ‘বিএনপির লোকজন আমার মেয়ের বিয়ের তিনটি সোনার গয়না ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। হামলাকারীরা চুলার রান্না করা ভাত ও তরকারি মাটিতে ফেলে দিয়ে গেছে। আমাদের ঘরে ১০ টাকার জিনিসপত্রও নেই।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে পুলিশ সুপার আবদুল ওয়াহাব বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহনশীল না হলে এসব ঘটনা প্রতিরোধ করা যাবে না। এ ঘটনায় ওয়ার্ড বিএনপির নেতা আসাফ সরকারসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। মামলা হবে।’

এদিকে শুক্রবার বিকেলে লালপুর উপজেলার ডহরশোলা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মতিনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তিনি নির্বাচনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী তাইফুল ইসলামের কর্মী ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি প্রার্থী ফারজানা শারমিনের কর্মী আবদুল মজিদ ও তাঁর সহযোগীরা প্রকাশ্যে তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছেন।

তবে অভিযুক্ত আবদুল মজিদ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। লালপুর থানার পুলিশ ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এ বিষয়ে নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনে নির্বাচিত বিএনপির আব্দুল আজিজ বলেন, ‘শুনেছি ধানাইদহের ঘটনাটি নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়। তবে নির্বাচনের পরপরই যেহেতু ঘটনাটি ঘটেছে, তাই আমি প্রশাসনকে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেছি। এতে বিএনপির কেউ দায়ী হলে তাঁর দায় বিএনপি নেবে না।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন