[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

বাউফলে বিএনপি নেতার ছেলেকে চাঁদা না দেওয়ায় দুই ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকির অভিযোগ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
বাউফলে চাঁদা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় দুই ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট। শুক্রবার উপজেলার দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন    

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপি নেতার ছেলেসহ কয়েকজনকে চাঁদা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় দুই ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে দোকান বন্ধ করে ধর্মঘট শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার সকালে উপজেলার কালাইয়া ধান হাট সেতুর পশ্চিম পাশে দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ধর্মঘটের খবর পেয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। তিনি চাঁদাবাজি বন্ধসহ জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে দুপুর ১২টার দিকে ব্যবসায়ীরা দোকান খোলেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দাসপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন প্যাদার ছেলে মো. শান্ত প্যাদাসহ কয়েকজন নিয়মিত তাঁদের কাছ থেকে চাঁদা নিতেন। গত বুধবার থেকে চাঁদা দেওয়া বন্ধ করে দিলে নির্মাণসামগ্রী মালিক সমিতির সভাপতিকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করলে আজ সমিতির সাধারণ সম্পাদককে ডেকে নিয়ে ধারালো ছুরি দেখিয়ে তাঁকেও হত্যার হুমকি দেন শান্ত। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে তাঁরা পালিয়ে যান। এরপরই ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে ধর্মঘট শুরু করেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ৩২ জন ব্যবসায়ীর দোকান আছে। তাঁরা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রলার ও কার্গোতে করে রড, সিমেন্ট, বালু ও পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী এনে ব্যবসা করেন। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি ট্রলার সেখানে আসে। অভিযোগ উঠেছে, ওই বিএনপি নেতার ছেলেসহ কয়েকজন প্রতিটি ট্রলার বাবদ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এক থেকে দেড় হাজার টাকা চাঁদা নিতেন।

দাসপাড়া-কালাইয়া নির্মাণসামগ্রী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাউফলকে চাঁদাবাজমুক্ত করবেন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর গত বুধবার সন্ধ্যায় ব্যবসায়ীরা জরুরি সভা করে সিদ্ধান্ত নেন যে তাঁরা আর চাঁদা দেবেন না। শান্ত প্যাদা গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চাঁদা নিতে এলে সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী অপারগতা প্রকাশ করেন। তখন তাঁকে তিন দিনের মধ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। থানায় অভিযোগ করার পর আজ সকালে মাসুদ রানাকেও ছুরি দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হয়।

সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘শান্তর কাছে সব সময় অস্ত্র থাকে। এ কারণে আমরা ভয়ের মধ্যে আছি।’ তিনি দ্রুত শান্তর গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে শান্ত প্যাদার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর বাবা বিএনপি নেতা সোহরাব হোসেন প্যাদা বলেন, ‘দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরীর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে জলমহাল কিনেছি। এ কারণে শান্ত ট্রলারপ্রতি ২০০ টাকা করে নেয়। এটা কোনো চাঁদাবাজি নয়।’

অবশ্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কালাইয়া ও দাসপাড়া খাল জলমহাল হিসেবে কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে বিএনপি নেতা আলী আজমের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর এলাকায় কোনো চাঁদাবাজি চলবে না। ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করবেন। প্রয়োজনে জীবন বাজি রেখে তিনি চাঁদাবাজমুক্ত বাউফল গড়বেন।

পটুয়াখালীর সহকারী পুলিশ সুপার (বাউফল সার্কেল) আরিফ মুহাম্মদ শাকুর বলেন, ‘সংসদ সদস্য মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন