বরিশালে সোনারগাঁও টেক্সটাইলে তৃতীয় দিনের বিক্ষোভ, নেপথ্যে দুই নেতা ছাঁটাই
![]() |
| বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল নগরের সদর রোডের অশ্বিনীকুমার হলের সামনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
সোনারগাঁও টেক্সটাইলের দুই শ্রমিকনেতার ছাঁটাইয়ের আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বরিশালে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের উদ্যোগে নগরের সদর রোডের অশ্বিনীকুমার হলের সামনে এ সমাবেশ হয়। এতে বিভিন্ন কলকারখানার শ্রমিকেরা যোগ দেন। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ১২ ঘণ্টার পরিবর্তে প্রতিবছরের মতো ১০ ঘণ্টা কাজ করে সকাল ৭টায় ইউনিয়নের নেতারা কারখানা থেকে বের হন। এ ঘটনায় কারখানার ব্যবস্থাপক বিধান মণ্ডল ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সহসাধারণ সম্পাদকদের নামে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। পরে বিষয়টি আঞ্চলিক শ্রম দপ্তরের মধ্যস্থতায় গত ৭ জানুয়ারি তিন পক্ষের বৈঠকের মাধ্যমে লিখিতভাবে নিষ্পত্তি করা হয়। এরপরও ব্যবস্থাপক বিধান মণ্ডল তাঁর দেওয়া নোটিশের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং একটি নামকাওয়াস্তে তদন্ত পরিচালনা করেন। তদন্ত কমিটিতে থাকা সাক্ষীরা কেউ স্বাক্ষর না করলেও বিধান মণ্ডল একতরফাভাবে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেন এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন ও সহসাধারণ সম্পাদক খুকু মণিকে বরখাস্তের কথা মৌখিকভাবে জানান।
বক্তারা বলেন, এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও সহসাধারণ সম্পাদককে কারখানার প্রবেশপথে ঢুকতে না দেওয়ায় শ্রমিকেরা কারখানায় প্রবেশে আপত্তি জানান এবং ওই দিন থেকে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
সমাবেশে বরিশাল জেলা বাসদের সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্তী বলেন, সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরে মালিকের নির্যাতন সহ্য করে আসছেন। ২০২৪ সালে শ্রমিকদের জন্য মজুরি কাঠামো ঘোষিত হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা হলেও শ্রমিকেরা এখানে ১২ ঘণ্টা কাজ করেন। ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের পর এই নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে গেছে। বিজয় দিবসে ফুল দিতে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী শ্রমিকেরা বের হয়েছিলেন। কিন্তু এই ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ সম্পাদক ও সহসাধারণ সম্পাদককে অন্যায়ভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে।
মনীষা আরও বলেন, 'ট্রেড ইউনিয়ন করা শ্রমিকদের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকারকে পদদলিত করে কারখানা কর্তৃপক্ষ একের পর এক অন্যায় সিদ্ধান্ত নিয়ে যাচ্ছে। এই অন্যায় ও অমানবিক সিদ্ধান্ত আমরা কিছুতেই মানতে পারি না। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, অবিলম্বে ছাঁটাই আদেশ প্রত্যাহার ও সব প্রতিষ্ঠানে অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত না করা হলে আরও কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবি আদায়ে বাধ্য করা হবে।'
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার ক্রীড়া সম্পাদক গাজী মোহাম্মদ বেল্লাল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন, বরিশাল জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, বরিশাল রিকশা-ভ্যান চালক-শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল শেখ, সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি ইমরান হোসেন এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার আহ্বায়ক সুজন আহমেদ।
সোনারগাঁও টেক্সটাইলের দুই শ্রমিকনেতাকে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে গত রোববার থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিকেরা। পরে ওই দিন বিকেলে শ্রমিকেরা রূপাতলী এলাকায় কারখানার মূল ফটকের সামনে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে প্রায় দেড় ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন। গতকাল সোমবারও সারা দিন তাঁরা কর্মবিরতি অব্যাহত রাখেন। বিকেলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানালেও তাঁরা তাতে রাজি হননি। এরপর সেনাবাহিনী শ্রমিক ও মালিকপক্ষকে নিয়ে বৈঠক করলেও বিষয়টির সমাধান হয়নি।

Comments
Comments