তিন দিনের ব্যবধানে মা-বাবার মৃত্যু: হাতকড়া পরেই জানাজায় দুই ভাই
![]() |
| হাতে হাতকড়া পড়ে জানাজায় অংশগ্রহণ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে | ছবি: স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত |
বার্ধক্যজনিত রোগে গত শনিবার মারা যান মা। কারাগারে থাকা দুই ভাই প্যারোলে মুক্তি পেয়ে সেদিন হাতকড়া পরেই অংশ নিয়েছিলেন মায়ের জানাজায়। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই গত সোমবার সন্ধ্যায় মারা যান তাঁদের বাবা। আবারও প্যারোলে মুক্তি পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার তাঁরা অংশ নিলেন বাবার জানাজা ও দাফনে। হাতকড়া পরা অবস্থায় দুই ভাই শেষবিদায় জানালেন বাবাকেও।
প্যারোলে মুক্তি পাওয়া এই দুই ভাই হলেন ফরিদুল আলম (৪৩) ও মোহাম্মদ ইসমাইল (৩৮)। তাঁরা কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা। গত আড়াই মাস ধরে তাঁরা কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার মা মোস্তফা বেগমের (৮০) মৃত্যুর পর তাঁদের পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। গতকাল বাবা নুর আহমদের (৯০) জানাজায় অংশ নিতেও তাঁদের একই মেয়াদে মুক্তি দেওয়া হয়। গতকাল বিকেলে পানেরছড়ার স্থানীয় একটি মসজিদ প্রাঙ্গণে হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার জানাজায় অংশ নেন তাঁরা। জানাজার আগে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে দুই ভাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, প্রতিহিংসাবশত তাঁদের মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ফরিদুল ও ইসমাইল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আড়াই মাস আগে একটি মামলায় পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। কিছুদিন আগে ওই মামলায় জামিন পেলেও অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণে তাঁরা মুক্তি পাননি। ইসমাইলের স্ত্রী কুলসুমা বেগম বলেন, মৃত্যুর আগে মা-বাবার সেবা করতে না পারায় দুই ভাইয়ের আফসোসের শেষ নেই। হাতকড়া পরেই তাঁরা বাবার লাশের খাটিয়া বাড়ি থেকে জানাজা প্রাঙ্গণে নিয়ে যান।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের দ্বিতীয় দফায় পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। জানাজা শেষে বিকেলে আবারও তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে রামু থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

Comments
Comments