[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

মডেল মসজিদে বিদ্যুতের বিল বকেয়া, মোমবাতি জ্বালিয়ে তারাবি

প্রকাশঃ
অ+ অ-
রমজানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অন্ধকার মসজিদে মোমবাতির আলোয় তারাবি নামাজ আদায় করছেন মুসল্লির। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন    

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে দীর্ঘ ৩৫ মাস ধরে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)। প্রায় ৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিল জমা হওয়ায় গত ৬ জানুয়ারি থেকে অন্ধকারে রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এই মসজিদটি। ফলে রমজান মাসে মোমবাতি জ্বালিয়ে তারাবির নামাজ আদায় করতে হচ্ছে মুসল্লিদের।

জানা যায়,  ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি মসজিদটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর থেকে গত তিন বছরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি মসজিদ পরিচালনা কমিটি বা ইসলামিক ফাউন্ডেশন। নিয়মিত বিল জমতে জমতে পাহাড়সমান বকেয়া তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কঠোর অবস্থানে যায় বিদ্যুৎ বিভাগ।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, তিনি সম্প্রতি বকেয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, 'মসজিদটি নির্মাণের পর থেকে কোনো বিল পরিশোধ করা হয়নি। হস্তান্তরের পর স্থানীয়ভাবে বিল দেওয়ার কথা ছিল, কারণ এর জন্য আলাদা কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। এটি বড় মসজিদ এবং উপজেলা সদর থেকে দূরে হওয়ায় তথ্য পেতে দেরি হয়েছে।' 

তিনি আরও জানান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও বাতির সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিলের পরিমাণও বেশি এসেছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

নালিতাবাড়ী পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী আব্দুল মোমিন জানান, ৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বকেয়া হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এটি এসটি লাইন হওয়ায় ব্যবহার না করলেও মাসে ১৫ হাজার টাকার বেশি চাহিদা মাশুল (ডিমান্ড চার্জ) আসে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে বারবার জানানো হলেও তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

তিনি আরও জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিল পরিশোধে ব্যর্থ মসজিদগুলোতে এখন অগ্রিম অর্থ পরিশোধের (প্রিপেইড) মিটার বসানোর পরিকল্পনা চলছে।

এদিকে শেরপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক এস এম মোহাই মোনুল ইসলাম জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মডেল মসজিদগুলোর প্রতি মাসে মাত্র ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিল সরকার বহন করে, যার পরিমাণ সর্বোচ্চ দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। কিন্তু এই মসজিদে এসিসহ আধুনিক সাজসজ্জার কারণে প্রতি মাসে বিল আসে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। রমজান মাসে সংযোগটি চালু রাখার অনুরোধ জানালেও বিদ্যুৎ বিভাগ তাতে সাড়া দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

মসজিদের দাতা সদস্য পান্না ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় দেড় মাস ধরে বিদ্যুৎ নেই। আমরা তৃতীয় রমজান পর্যন্ত অন্ধকারে মোমবাতি জ্বালিয়ে নামাজ পড়ছি। এলাকার তরুণরা এখন নিজস্ব উদ্যোগে একটি প্রিপেইড লাইন আনার চেষ্টা করছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন