[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

মোগল স্থাপত্য ‘দেওয়ানের পুল’ রক্ষা করতে চান এমপি এমরান

প্রকাশঃ
অ+ অ-
সিলেট -৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এ সড়ক ও ব্রিজ পরিদর্শন করেন | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন   

সিলেটের মোগল আমলের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ‘দেওয়ানের পুল’ পরিদর্শন করেছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আইনজীবী এমরান আহমদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রকৌশলীদের সঙ্গে নিয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের দেওয়ানের সড়ক এলাকায় থাকা প্রাচীন এই সেতুটি পরিদর্শন করেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা সরকারি তথ্য বাতায়নের তথ্য অনুযায়ী, মোগল সম্রাট মুহম্মদ শাহের (১৭১৯-৪৮) রাজত্বকালে আনুমানিক ১৭৪০ সালে অল্প সময়ের জন্য সিলেটের দেওয়ান (রাজস্ব কর্মকর্তা) হিসেবে মুর্শিদাবাদ থেকে আসেন গোলাব রাম (মতান্তরে গোলাব রায়)।

দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এই ধর্মপ্রাণ দেওয়ান গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণে শ্রী চৈতন্যের পিতৃভূমি সম্পর্কে জানতে পারেন। তাঁর নির্দেশেই সিলেট থেকে ঢাকা দক্ষিণ পর্যন্ত সড়ক ও সেতু তৈরি করা হয়।

হেতিমগঞ্জ থেকে ঢাকা দক্ষিণগামী সড়কটি আজও দেওয়ানের সড়ক নামেই পরিচিত। এই সড়কে ‘দেওয়ানের পুল’ নামে একটি প্রাচীন কালভার্ট এখনো টিকে আছে। ধারণা করা হয়, এই দেওয়ানের নাম অনুসারেই সুরমা নদীর তীরে ‘গোলাবগঞ্জ’ নামে একটি বাজার গড়ে ওঠে; যা সময়ের ব্যবধানে নাম বদলে ‘গোলাপগঞ্জ’ হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছিল স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর। সে সময় স্থাপত্যটির কিছু অংশ ভাঙাও হয়। পরে পরিবেশবাদীদের দাবির মুখে ভাঙার কাজ বন্ধ রাখা হয়।

অপরিকল্পিতভাবে ‘দেওয়ানের পুল’ অর্ধেক ভেঙে ফেলায় তিন বছর ধরে দুই তীরের কয়েক হাজার মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার ও বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দারা এই সংযোগ সড়ক দিয়ে সহজেই বিভাগীয় শহর সিলেটে যাতায়াত করতেন। কিন্তু গত তিন বছর ধরে তারা চরম অসুবিধার মধ্যে রয়েছেন।

এসব মানুষের কষ্ট দূর করতে এবং সেতুটি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে এটি পরিদর্শন করেছেন বলে জানান এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কবে কাজ শুরু করা যায়, তা নিয়ে আলাপ করেছি। আমরা ‘দেওয়ানের পুল’-এর আর কোনো ক্ষতি না করে পাশেই একটি চারকোনা কালভার্ট (বক্স কালভার্ট) তৈরি করতে চাই। তবে এটি এমনভাবে করা হবে, যাতে পানির প্রবাহ ঠিক থাকে। পাশাপাশি ‘দেওয়ানের পুল’ সংস্কার করে পর্যটনকেন্দ্রের মতো সংরক্ষণ করা হবে, যাতে দর্শনার্থীরা এখানে এসে সময় কাটাতে পারেন। এ ছাড়া নতুন কালভার্ট হওয়ার আগ পর্যন্ত ‘দেওয়ানের পুল’ মেরামত করে এর ওপর দিয়ে হালকা যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে।

সংসদ সদস্য বলেন, এখানের সংযোগ সড়কটিও প্রশস্ত করতে হবে। এর জন্য জমি দিয়ে সহযোগিতা প্রয়োজন। আশা করি, স্থানীয় বাসিন্দারা এ বিষয়ে এগিয়ে আসবেন।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হবে এবং প্রকল্প অনুমোদন পাবে। ঈদের পরপরই দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে কাজ শুরু হবে এবং এর দুই মাসের মধ্যে তা শেষ করা হবে।

‘দেওয়ানের পুল’ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামিল আহমদ, আব্দুল আহাদ, দিলাল আহমদ, জালাল আহমদ, আব্দুল করিম মানিক, ঈসমাইল হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি তারেক আহমদ, সহসাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ, জেলা যুবদলের সদস্য লায়েক আহমদ ও মনছুর আহমদ, গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নিজামুল কাদির লিপন ও লায়েছ আহমদ, যুবদল নেতা মোহন আহমদ ও কামিল আহমদ। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন