[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

আমি মায়েদের কীভাবে সম্মান করি, ৯ কোটি মা তার সাক্ষী: জামায়াতের আমির

প্রকাশঃ
অ+ অ-
শেরপু‌রে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অ‌তি‌থির বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। রোববার দুপু‌রে শহ‌রের দা‌রোগা‌লি মাঠে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমি আমার মায়েদের কীভাবে সম্মান করি, আমার মায়েরা তার সাক্ষী, বাংলাদেশের ৯ কোটি মা তার সাক্ষী। আমার টুইটার যেটাকে এখন এক্স বলা হয়, সেই অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ১৫ ঘণ্টা আগে মায়েদের নিয়ে অত্যন্ত বাজে, অরুচিকর, কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। দেখলাম, একটি দল হইহই রইরই করে মিছিল শুরু করেছে। যারা মায়েদের সম্মান করতে জানে না, তারা এখন মিছিল শুরু করেছে। মানে, এই কাজ কে করেছে, ঠাকুরঘরে কে, আমি কলা খাই না।’

রোববার বেলা পৌনে একটার দিকে শেরপুর শহরের দারোগালি মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি শেরপুরের তিনটি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘একেবারেই ইতরশ্রেণি না হলে এই কাজ কেউ করতে পারে না। আরে ভাই, আমার বক্তব্য, কর্মসূচি, পরিকল্পনা—তুমি সেগুলো দিয়ে মোকাবিলা করো। এই চোরাই ও নোংরা পথে কেন?’ তিনি আরও বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সাত ঘণ্টা পরে এখন আমার অ্যাডমিনের কন্ট্রোলে আবার এটি ফিরে এসেছে। ওই ঘটনার পর যদি কোনো মা সাময়িকভাবে, তাদের ভুল তথ্যের কারণে কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাই।’

গণমাধ্যমের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আবার ভুলভাবে লিখবেন না যে আমি বাজে মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছি। মাঝে মাঝে কিছুই ঠিকভাবে প্রকাশ করা হয় না। আমি এই বিষয়ে সাবধান করে দিলাম।’

শেরপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রশাসনের ডাকা সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই জামায়াত নেতা রেজাউল করিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় কোনো দলের নাম না উল্লেখ করে বলেন, যারা নিজের দলের দুই শতাধিক মানুষকে বিদায় দিয়েছে, তাদের কাছে মানুষের জীবন ও ইজ্জত নিয়ে খেলা নতুন কিছু নয়। যারা এমন কাজ করছে, তারা সময়মতো এর জবাব পাবে।

বিগত ১৫ বছরের রাজনৈতিক নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে জামায়াতের আমির বলেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, নিবন্ধন ও প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর সিদ্ধান্তে, নিষিদ্ধের পঞ্চম দিনেই সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটে।

নিহত জামায়াত নেতার কবর জিয়ারত
জনসভায় যোগদানের আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলার গোপালখিলা এলাকায় নিহত রেজাউল করিমের বাড়িতে যান জামায়াতের আমির। কবর জিয়ারতের পাশাপাশি তিনি রেজাউলের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। কবর জিয়ারত শেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়ও করেন শফিকুর রহমান।

জামায়াতের আমিরের সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছামিউল হক ফারুকী, শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলসহ দলটির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে হেলিকপ্টারে করে শ্রীবরদীর গোপালখিলা খেলার মাঠে অবতরণ করেন শফিকুর রহমান। পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় শেরপুরে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন। এরপর তিনি জামালপুরে জনসভায় অংশ নেন। 

‘বস্তাপচা রাজনীতির কবর রচনার নির্বাচন’
জামালপুর শহরের সিংহজানী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই নির্বাচন অতীত ৫৪ বছরের যে রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি করেছে, সেই বস্তাপচা রাজনীতির কবর রচনার নির্বাচন।’ 

জামালপুরে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। রোববার দুপুরে জামালপুর শহরের সিংহজানী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় হ্যাঁ ভোটের কথা বলছি। কিন্তু কিছু দল হ্যাঁ ভোট নিয়ে পরিষ্কারভাবে কিছু বলতে চায় না। আমরা তাদের কাছে বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, আমরা যেভাবে ১৮ কোটি মানুষের সামনে সংস্কারে হ্যাঁ ভোট এবং গণভোটে হ্যাঁ বলছি, আপনারা হ্যাঁ ও না ভালো করে বলেন। আস্তে আস্তে লুকিয়ে লুকিয়ে কেন বলছেন?’

জনসভায় জামালপুর-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের প্রার্থী মো. সামিউল হক (ফারুকী), জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী, জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মজিবুর রহমান আজাদী প্রমুখ।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন