পাবনায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনের পরদিন আগুন
![]() |
| ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় কয়েকজন যুুবক। শনিবার বিকেলে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দীর্ঘ ১৮ মাস পর গত শুক্রবার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। বিকেলে দলের কয়েকজন নেতা-কর্মী কার্যালয়ে এসে এই পতাকা ওড়ান। তবে সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই শনিবার বিকেলে কার্যালয়টিতে পুনরায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলের নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে চলে যান। সেই সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা কয়েক দফায় কার্যালয়টিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি অবস্থিত। গত ৫ আগস্টের পর থেকে এটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। এর মধ্যেই হঠাৎ গত শুক্রবার বিকেলে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী সেখানে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় তাঁরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশে হাসবে’ বলে স্লোগান দেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, নেতা-কর্মীদের নেতৃত্বে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আইনজীবী তৌফিক ইমাম খান, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব আলম খান এবং পৌর আওয়ামী লীগ নেতা রহমান। তাঁদের সঙ্গে আরও দু-তিনজন স্লোগান দিচ্ছিলেন।
গতকালের সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিকেলে কার্যালয়টিতে আবার আগুন দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে কয়েকজন তরুণ টায়ার নিয়ে কার্যালয়ে ঢোকেন। ভেতরে পোড়ানোর মতো আর কিছু না থাকায় তাঁরা টায়ার জ্বালিয়ে কিছুক্ষণ উল্লাস করেন এবং আগুন রেখেই চলে যান।
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দোতলা ভবনটি এখন কঙ্কালসার। চারপাশে নোংরা ও আবর্জনার স্তূপ জমে ভুতুড়ে বাড়ির মতো অবস্থা হয়েছে। এর মধ্যেই নিচতলার দুটি কক্ষে ধোঁয়া ছড়ানো আগুন জ্বলছে এবং পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। উৎসুক জনতা দূর থেকে দেখলেও কেউ আগুন নেভাতে এগিয়ে আসছেন না।
এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল হোসেন বলেন, ‘পুরো বিষয়টি আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Comments
Comments