[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ পুলিশের

প্রকাশঃ
অ+ অ-
গ্রেপ্তার | প্রতীকী ছবি 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের এরই মধ্যে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলের কোনো কার্যক্রমে কেউ সক্রিয় হলে তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর, বিভিন্ন রেঞ্জ ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের পর বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ এই দলটির নেতা-কর্মীরা আবার সক্রিয় হতে শুরু করেন। বন্ধ থাকা দলীয় কার্যালয় খোলার পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাঁদের অংশ নিতে দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে করণীয় কী হবে, তা নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা ছিল। এই প্রেক্ষাপটে ২২ ফেব্রুয়ারি মাঠপর্যায়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

সেদিন ইন্টারনেটের মাধ্যমে আয়োজিত (ভার্চ্যুয়াল) এক সভায় পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের তৎপরতা চলতে দেওয়া যাবে না। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

কেউ দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় হলে গ্রেপ্তার করতে বলা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর, বিভিন্ন রেঞ্জ ও জেলা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

গত মঙ্গলবার রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান এ বিষয়ে একটি লিখিত নির্দেশনা দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের যেসব নেতা-কর্মী জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর দলকে শক্তিশালী ও সংগঠিত করতে পারেন অথবা মাঠে সক্রিয় হওয়ার ক্ষমতা রাখেন—তাঁদের জামিন হলে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে (শোন অ্যারেস্ট) হবে। তবে যাঁদের মধ্যে এমন তৎপরতার আশঙ্কা নেই, তাঁদের জামিন হলে আপাতত নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রয়োজন নেই বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির এই চিঠি বিভাগের আট জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর পরদিন গত বুধবার বিভিন্ন মামলায় জামিন পাওয়া তিনজনকে আবারও গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এই চিঠিটি গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। এমনকি এই ধরনের চিঠির যৌক্তিকতা এবং আইনি ভিত্তি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।

 
রাজশাহীর চিঠিটির বিষয়ে সেখানকার ডিআইজি–ই ভালো বলতে পারবেন। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের কোনো কর্মসূচি পরিচালনার সুযোগ নেই।
এ কে এম আওলাদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘এটাই তো নিয়ম। আমরা কোনো দলের নাম উল্লেখ করিনি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সদস্যরা জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আমাদের কাছে যদি তথ্য থাকে যে অন্য কোনো মামলায় তাঁর জড়িত থাকার প্রমাণ আছে, তবে তাঁকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে হবে। আর অন্য মামলায় জড়িত থাকার তথ্য না থাকলে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখাতে বলা হয়নি।’

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ‘আদেশ পেয়ে’ এই চিঠিটি দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেও এটি জানা যায়নি যে, ঠিক কোন পর্যায় থেকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমনকি এভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর কোনো লিখিত নির্দেশনা আদৌ দেওয়া হয়েছে কি না, তাও পরিষ্কার নয়। তবে জামিনে মুক্তি পেয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারেন, এমন ব্যক্তিদের অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অলিখিত নির্দেশনা বিভিন্ন সময়ে দেওয়া হয়েছে।
এই চিঠি গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে আলোচনা–সমালোচনাও দেখা গেছে। এমন চিঠির যৌক্তিকতা ও আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন জানান, রাজশাহীর ওই চিঠির বিষয়ে সেখানকার ডিআইজি-ই ভালো বলতে পারবেন। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কোনো কর্মসূচি পালনের সুযোগ নেই। যদি কেউ কর্মসূচি পালন করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন