মাদারীপুরে সড়কের গাইডওয়ালে বিমের বদলে কলাগাছ
![]() |
| মাদারীপুরে একটি নির্মাণাধীন সড়কের সীমানাপ্রাচীরে ইটের গাঁথুনির নিচে দেওয়া হয় আস্ত কলাগাছ। সম্প্রতি শিবচর উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড চরকাকইর চৌরাস্তা মোড় এলাকায় | ছবি: সংগৃহীত |
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় একটি নির্মাণাধীন সড়কের গাইডওয়াল নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে ইটের গাঁথুনির নিচে কংক্রিটের বিমের বদলে কলাগাছ ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর স্থানীয় লোকজন ছবি ও ভিডিও তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।
ঘটনাটি ঘটেছে শিবচর উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাকইর চৌরাস্তা মোড় এলাকায়। এই ঘটনা নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে কর্তৃপক্ষ ওই অংশের ইটের গাঁথুনি ভেঙে কলাগাছ সরিয়ে নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু করেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) শিবচর উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি অর্থায়নে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শিরুয়াইল ইউনিয়নের সাদেকাবাদ হয়ে সিপাইকান্দি থেকে মুন্সীকান্দি গ্রাম পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ মিটার সড়ক এবং ১৫৩ মিটার গাইডওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এই কাজ পায় মাদারীপুর শহরের 'মনির কনস্ট্রাকশন' নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ছয় মাস আগে কাজ শুরু হলেও নানা কারণে তা বন্ধ ছিল। সম্প্রতি ঠিকাদার আলমগীর জমাদ্দারের তত্ত্বাবধানে আবার কাজ শুরু হয়, তবে অধিকাংশ কাজ এখনো শেষ হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি মাটির ওপর কলাগাছ রেখে তার ওপর ইটের গাঁথুনি দিয়ে গাইডওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছিল। চরকাকইর এলাকার একটি মসজিদের সামনে প্রায় ৩০ মিটার অংশে এভাবে কাজ করা হয়েছে। বিষয়টি দেখে স্থানীয়রা ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন।
চরকাকইর এলাকার বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়ক ব্যবহার করে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা সদরসহ সারা দেশে যাতায়াত করেন। গাইডওয়ালের নিচে কলাগাছ দেওয়া ছাড়াও সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করা হয়েছে।’
ভিডিও প্রকাশকারী হায়দার আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গাইডওয়াল নির্মাণে বিম না দিয়ে কীভাবে কলাগাছ দেয়? দেখার কি কেউ নেই? সরকারি টাকায় এমন কাজ করার চেয়ে না করাই ভালো।’
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে 'মনির কনস্ট্রাকশন'-এর মালিক আলমগীর জমাদ্দার বলেন, ‘যে রাজমিস্ত্রি কাজ করছে তাকে জিজ্ঞাসা করেছি কেন এমন করা হলো। আমি তাকে এমন কিছু করতে বলিনি। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই কলাগাছ সরিয়ে সেখানে বিম দিয়ে ইটের গাঁথুনি দেওয়া হয়েছে।’ নির্মাণসামগ্রীর মান ভালো দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘সঠিক নিয়মেই কাজ শেষ করে দেব। আশা করছি, স্থানীয়দের আর কোনো অভিযোগ থাকবে না।’
এদিকে উন্নয়নকাজটির তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডির শিবচর উপজেলা কার্যালয়ের পরিমাপকারী (সার্ভেয়ার) জামাল উদ্দিন শিকদার বলেন, ‘গাইডওয়ালের গাঁথুনিতে কলাগাছ দেওয়া হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। নির্বাচনের ডিউটিতে আমি অনেক দিন ব্যস্ত ছিলাম। ঠিকাদার কোনো অনিয়ম করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। তবে পাঁচ মিটার অংশে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল, যা পরে ঠিক করা হয়েছে। আমরা ঠিকাদারকে এখনো কোনো বিল দিইনি।’
এলজিইডির মাদারীপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্তনীয়া বলেন, ‘আমি উপজেলা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেছি। গাইডওয়াল নির্মাণে কলাগাছ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি কেবল অনিয়ম নয়, বরং গুরুতর অপরাধ। সরকারি কাজে এমন গাফিলতি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। আমি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান জানান, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Comments
Comments