[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন নিয়ে বরিশালের আদালতে হট্টগোল

প্রকাশঃ
অ+ অ-
বরিশালে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাসে হট্টগোল হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে | ছবি : সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও থেকে নেওয়া

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাদের জামিন দেওয়াকে কেন্দ্র করে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা এজলাসে ঢুকে বেঞ্চ ধাক্কাধাক্কি ও চিৎকার করেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

আদালত সূত্র ও আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ১ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দুপুর ২টা ৩৯ মিনিটের দিকে ঘটনার শুরু। তখন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহ একটি মামলার শুনানি করছিলেন। এজলাসে আদালতের কর্মীরা ও কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, হঠাৎ কক্ষের দরজা খুলে একদল আইনজীবী চিৎকার করতে করতে ভেতরে ঢোকেন। তাঁরা এজলাসের বেঞ্চগুলো হাত-পা দিয়ে ধাক্কা দিতে থাকেন। একজন আইনজীবী বিচারকের সামনে গিয়ে আঙুল তুলে চিৎকার করেন এবং সামনের বেঞ্চে আঘাত করেন। কিছুক্ষণ পর তাঁরা কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

এর আগে আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা চিফ মেট্রোপলিটন ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন। তাঁরা আদালতের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভও করেন।

আইনজীবী সমিতির একটি সূত্র জানায়, এজলাস কক্ষে প্রথমে প্রবেশ করা আইনজীবী ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান (লিংকন)। ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিপুল অংকের টাকার বিনিময়ে এই জামিন দেওয়া হয়েছে। আমরা বিচারককে অনুরোধ করেছিলাম জামিন না দিতে, কিন্তু তিনি তা শোনেননি। সকালে আদালত না চালানোর অনুরোধ করলেও কাজ হয়নি। পরে ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা ভেতরে ঢুকে প্রতিবাদ জানান।’

সাদিকুর রহমান আরও জানান, পরে বিষয়টি নিয়ে মহানগর দায়রা জজের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং বুধবার জামিন বাতিলের আবেদন করা হবে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব আহমেদ বলেন, আদালতে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে মহানগর দায়রা জজের সঙ্গে বিচারকদের আলোচনা চলছে। এর বেশি কিছু তিনি বলতে রাজি হননি।

এদিকে, হট্টগোলের আগে আইনজীবীরা বিচারক এস এম শরীয়তউল্লাহর অপসারণ ও জামিন বাতিলের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য মহানগরের সব আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। এই কর্মসূচিতে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পিপি মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার বিষয়ে বরিশাল জেলা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) ও জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আহমেদ (বাবলু) বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি জামিন অযোগ্য ছিল। তিনি আত্মসমর্পণ করলে বিচারক রহস্যজনক কারণে তাঁকে জামিন দেন। এছাড়া আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা এই আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন, যা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এসব জামিন দেওয়া হয়েছে। আমরা জামিনের বিরোধিতা করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।’

আদালতের হট্টগোলের বিষয়ে হাফিজ আহমেদ বলেন, ‘দুপুরে কর্মসূচি শেষ করার পর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান (লিংকন) ও মহানগরের দুজন সরকারি কৌঁসুলি সোমবার আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসের জামিন আদেশ বাতিলের জন্য ওই আদালতে একটি আবেদন নিয়ে যান। কিন্তু আবেদনটি গ্রহণ না করে তাঁদের সঙ্গে অপমানজনক কথা বলেন বিচারক। এ নিয়ে সামান্য বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। আদালতে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন পান। বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহ তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছিলেন।

এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তিন নেতা জামিনে মুক্তি পান। জামিন পাওয়া অন্য দুজন হলেন বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন এবং মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন