[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

নাঈম উদ্দীনের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশঃ
অ+ অ-

ছাত্রনেতা নাঈম উদ্দীনের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সংবাদ সম্মেলন। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মধুর ক্যানটিনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন    

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা নাঈম উদ্দীনের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। সংগঠনটি বলেছে, সারা দেশে পুলিশের এই দমনমূলক আচরণ জনগণের ওপর নীতি-পুলিশগিরির (মোরাল পুলিশিং) একটি অংশ মাত্র।

বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের নেতারা এসব কথা বলেন। এতে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি অমল ত্রিপুরা।

লিখিত বক্তব্যে নাঈমের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে নেতারা বলেন, ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে হলে ফেরার সময় তিনি পুলিশি হয়রানির শিকার হন। যদিও পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বেআইনি কাজের প্রমাণ বা অভিযোগ পায়নি। ওই সময় নাগরিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন করায় পেছন থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য হঠাৎ তাঁকে আক্রমণ করেন। এতে তিনি আহত হন। এই ঘটনা নাগরিক অধিকার, কথা বলার স্বাধীনতা এবং দেশের প্রচলিত আইনের পুরোপুরি বিরোধী।

পুলিশের কাঠামোয় মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসেনি উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ বাহিনীর গণবিরোধী অবস্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল যে, এই বাহিনীতে সংস্কার হবে এবং একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করা হবে। পুলিশ সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায়ভাবে শক্তি প্রয়োগ করবে না। কিন্তু পুলিশি ব্যবস্থায় কোনো আমূল পরিবর্তন আসেনি। জুলাই ও এর পরবর্তী সময়ে পুলিশের কোনো অপরাধেরই সঠিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট ছয়টি দাবি তুলে ধরে। এগুলো হলো: সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে ও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে, অভিযুক্ত উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদসহ সারা দেশে হয়রানিতে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সংবিধান ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নিতে হবে, তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখতে হবে, নিজের সীমার বাইরে গিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের মাধ্যমে পুলিশি হয়রানির সুযোগ তৈরি করার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে ও পার্ক ও উদ্যানে মানুষের অবাধ যাতায়াত এবং আড্ডা দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে জোটের নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা ও হয়রানি বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেতাদের আশ্বস্ত করে জানায় যে, বৃহস্পতিবারের মধ্যে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হবে। পাশাপাশি অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি ছায়েদুল হক নিশান, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সহসভাপতি নাঈম উদ্দীন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল, সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক নুজিয়া হাসিন রাশা এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন