বরগুনা-২: নির্বাচনী পরিবেশ নষ্টের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর
![]() |
| সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বরগুনা-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী সুলতান আহমদ। আজ মঙ্গলবার বিকেলে বরগুনা জেলা জামায়াতের দলীয় কার্যালয় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
বরগুনা-২ (বেতাগী–বামনা–পাথরঘাটা) আসনে নির্বাচনী পরিবেশ পরিকল্পিতভাবে নষ্ট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সুলতান আহমদ। মঙ্গলবার বিকেলে বরগুনা জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। জনসভায় আসতে বাধা দেওয়া, দেশি অস্ত্র দিয়ে হামলা, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন বরগুনা-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী সুলতান আহমদ। তিনি বলেন, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) পাথরঘাটা কেএম লতিফ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের উদ্যোগে জনসভার আয়োজন করা হয়। জনসভায় মানুষের ঢল দেখে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনি ও তাঁর নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন স্থানে সভাগামী সাধারণ মানুষকে বাধা দেন।
সুলতান আহমদ আরও অভিযোগ করেন, পাথরঘাটা পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, ফেরিঘাট ও বাজারে দলবদ্ধভাবে অবস্থান নিয়ে দেশি অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু গুরুতর আহত হন। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকও বাধার মুখে পড়েন। হামলাকারীরা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও নির্বাচনী প্রচারের অটোরিকশা ভাঙচুর করে এবং দামি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এসব ঘটনার মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী নিয়মের গুরুতর লঙ্ঘন।
ঘটনার পরপরই পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন জামায়াত প্রার্থী। তিনি আরও বলেন, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ বা হামলাকারীদের গ্রেপ্তার হতে দেখা যায়নি। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং জনসভা বিঘ্নিত হয়।
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন দাবি করে সুলতান আহমদ বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকেই পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দুপুরে কাঁঠালতলী ইউনিয়নে জামায়াত কর্মী মাওলানা মাহফুজুর রহমানকে দেশি অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং নির্বাচনের সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) সম্পূর্ণ নষ্ট হবে।
তবে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ মানতে নারাজ বরগুনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমরা এই ঘটনায় মামলা নিয়েছি এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
হামলার অভিযোগের বিষয়ে বরগুনা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক (পাথরঘাটা উপজেলা) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বেশ কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, এটি সত্য। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে যেন এমন না ঘটে, সেই চেষ্টা আমরা করছি।’

Comments
Comments