[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

মব ভায়োলেন্স বলে কিছু নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন স্বরাষ্ট্র মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বুধবার বিকেলে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি মিলনায়তনের সামনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজশাহী বিভাগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি খুবই ভালো বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকায় নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনির মতো কিছু নেই।

বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে করার লক্ষ্যে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অনেক প্রার্থী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করছেন—এক সাংবাদিকের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘যেসব প্রার্থী অশোভন আচরণ করছেন, তাঁরা জয়ী হওয়ার পর কী করবেন? তাই আপনারা এগুলো সংবাদে ফলাও করে প্রচার করবেন। যদি আপনারা প্রচার করেন, দেখবেন তাঁরা নিজেরাই সোজা হয়ে যাবেন। কেউ যদি খারাপ আচরণ করেন এবং তা যদি সমাজে প্রকাশ পেয়ে যায়, তবে তিনি নিজেই নিজেকে সংশোধন করে নেবেন। আর যদি তিনি বেশি কিছু করেন, তবে পাশে ব্যবস্থা আছে (কারাগার দেখিয়ে), সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, মব ভায়োলেন্স নিয়ে পুলিশের ভেতর একটা ভীতি কাজ করছে কি না? এর জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘মব ভায়োলেন্স বলতে কোনো কিছু নেই। পুলিশের ভেতরে কোনো ভীতি কাজ করছে না।’

এ সময় পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও পুলিশ কমিশনারকে ডেকে পাশে আনেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি ডিআইজির কাঁধ ও পেটে থাবড়া দেন। পুলিশ কমিশনারকে ডেকে এনে বলেন, ‘এই যে দেখুন’। তখন সাংবাদিকেরা বলতে থাকেন, পুলিশ কমিশনারকে তাঁরা চেনেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা জানান, ১২ তারিখের নির্বাচনকে ঘিরে কেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যে প্রস্তুতি দেখেছি, তাতে আমি আশাবাদী। প্রায় সব কেন্দ্রে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসানো হয়েছে। যেসব কেন্দ্রে সীমানা প্রাচীর নেই, সেখানে বিকল্প উপায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী মিলেমিশে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আমি বিশ্বাস করি, এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হবে।’

সারা দেশে নির্বাচন উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব পালনে এক লাখের বেশি সেনাবাহিনীর সদস্য থাকবেন। এ ছাড়া পাঁচ হাজার নৌবাহিনীর সদস্য, তিন শতাধিক বিমানবাহিনীর সদস্য, প্রায় তিন হাজার সাত শ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য, কোস্টগার্ড, দেড় লক্ষাধিক পুলিশ সদস্য, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) সদস্য এবং সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় পাঁচ লক্ষাধিক আনসার সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন।

অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের কোনো আশঙ্কা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা নেই বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, র‍্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, অতিরিক্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) খন্দকার রফিকুল ইসলাম এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ (সিনিয়র) সচিব নাসিমুল গনি। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।

এর আগে দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। সভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার জেলা প্রশাসক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে কোনো সংশয় নেই। নির্বাচনের প্রস্তুতি খুবই ভালো। ভোটের দিনসহ আগে ও পরে মোট সাত দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এবারের নির্বাচনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। নির্বাচনের পর কোনো ধরনের সহিংসতা হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন