[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

কেরানীগঞ্জের পোশাকপল্লিতে জমজমাট বেচাকেনা, লক্ষ্য ৭ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পোশাকপল্লির পাইকারি বাজারে বেচাকেনা জমে উঠেছে। মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পূর্ব আগানগর এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন   

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের পোশাকপল্লির পাইকারি বাজারে কেনাবেচা জমে উঠেছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তৈরি পোশাক কিনতে এখানে আসছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। সব মিলিয়ে এখন বেশ কর্মচঞ্চল এলাকাটি। চলতি বছর এই পোশাকপল্লিতে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জের আগানগর, পূর্ব আগানগর, আলম বিপণিবিতান, নুরু মার্কেট, চরকালীগঞ্জ, কালীগঞ্জ ও খেজুরবাগ এলাকাসহ প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গাজুড়ে এই পোশাকপল্লি গড়ে উঠেছে। এখানে প্রায় ১৫ হাজার প্রদর্শনী কেন্দ্র (শোরুম) ও ৫ হাজার ছোট-বড় কারখানা আছে। এসব কারখানা ও শোরুমে কয়েক লাখ শ্রমিক কাজ করছেন।

মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন মার্কেট ও কারখানা ঘুরে দেখা যায়, শ্রমিকেরা পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ সেলাই করছেন, কেউ সুতা বাছাই করছেন, আবার কেউ তৈরি পোশাক প্যাকেট (মোড়কীকরণ) করছেন। কাজ শেষে শ্রমিকেরা পোশাকের বোঝা কাঁধে নিয়ে শোরুমের দিকে ছুটছেন।

শহিদুল আলম মার্কেটের তালহা গার্মেন্টসের মালিক মনির হোসেন বলেন, প্রতিবছর শবে বরাতের পরদিন থেকে পাইকারেরা আসতে শুরু করেন। তবে নির্বাচনের কারণে এবার ১ রমজান থেকে বেচাবিক্রি জমে উঠেছে। তাঁর দোকানে ৪০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা পাইকারি দরে পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকায় তিনি আশা করছেন এবারের ঈদের বাজার ভালো যাবে।

আগানগর এলাকার সামিহা গার্মেন্টসের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঈদ সামনে রেখে এবার কেনাবেচা বেশ ভালো। বিশেষ করে পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস ও শিশুদের পোশাকের চাহিদা বেশি। শেষ পর্যন্ত এই ধারা বজায় থাকলে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।

নুরু মার্কেটের মুইসিন ফ্যাশনের পরিচালক শাহীনুর রহমান বলেন, ক্রেতাদের চাহিদার কথা ভেবে তাঁরা এবার নকশা ও কাপড়ের মানে পরিবর্তন এনেছেন। উৎপাদন খরচ বাড়ায় দাম কিছুটা বেশি হলেও পাইকারেরা ভালো সাড়া দিচ্ছেন।

পূর্ব আগানগর সড়কের তানাকা মার্কেটের এন এ গার্মেন্টসের মালিক মুন্নি আক্তার বলেন, ঈদ উপলক্ষে তিনি প্রায় তিন হাজার প্যান্ট ও শার্ট তৈরি করেছেন। রমজান শুরুর আগেই বেশির ভাগ বিক্রি হয়ে গেছে। তিনি জিনস প্যান্ট ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং শার্ট ৭০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন।

মজিদ মার্কেটের শাহ মিজান গার্মেন্টসের পরিচালক মো. শাহজাহান জানান, তাঁর দোকানে বেশির ভাগ মেয়েদের পোশাক পাওয়া যায়। সেখানে ৭০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত দামে মেয়েদের পোশাক বিক্রি হচ্ছে।

কুমিল্লা থেকে আসা পাইকার মোহাম্মদ হাসান বলেন, কেরানীগঞ্জের পোশাকে বৈচিত্র্য বেশি এবং দামও তুলনামূলক কম। তাই প্রতি ঈদেই তিনি এখান থেকে মালামাল নেন। বগুড়া থেকে আসা পাইকার মো. রেজাউল করিম জানান, পণ্যের দাম কিছুটা বাড়লেও চাহিদা থাকায় তিনি ঝুঁকি নিয়েই কেনাকাটা করছেন।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, ব্যবসার পরিবেশ ভালো। তিনি আশা করছেন এবার বিক্রি ৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য এবার ফুটপাতে দোকান বসতে দেওয়া হয়নি এবং দিনরাত আনসার পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের (লোডশেডিং) অভিযোগ তুলে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, এলাকায় লোডশেডিং বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা জেনারেটরের ওপর নির্ভর করছেন। এই সুযোগে কিছু অসাধু জেনারেটর ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন। ব্যবসায়ীদের স্বার্থে এ বিষয়ে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন