[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

বাউফলে শহীদ মিনারে আলোকসজ্জা নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশঃ
অ+ অ-
শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আলোকসজ্জা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন    

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পটুয়াখালীর বাউফল পাবলিক মাঠসংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোকসজ্জা করা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শোকের এই দিনে শহীদ মিনারকে রঙিন আলোয় সাজানোয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন ও আপত্তি তুলেছেন।

ভাষাশহীদদের স্মরণে শনিবার প্রথম প্রহরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তবে শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি শহীদ মিনারের চারপাশের ঝাড়বাতি ও রঙিন আলোকসজ্জা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগের স্মরণে পালিত এই দিনটি মূলত শোক ও শ্রদ্ধার। সেখানে এমন বর্ণিল আলোকসজ্জা দিবসটির ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে মানানসই নয়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত দিয়েছেন যে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার দাবিতে প্রাণ উৎসর্গকারীদের স্মরণে এমন চাকচিক্য শোভন নয়।

স্থানীয় সাংবাদিক এমরান হাসান সোহেল তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, জাতি যখন ভাষাশহীদদের স্মরণে শোকাভিভূত, তখন শহীদ মিনারকে ঝাড়বাতি দিয়ে সাজানো দৃষ্টিকটু ও বেদনাদায়ক। শোকের দিনে এমন আলোকসজ্জা তাঁর অভিজ্ঞতায় নজিরবিহীন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে বাউফল উপজেলা জিয়া মঞ্চের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফিরোজ প্রশ্ন তুলে বলেন, রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যেখানে সংযত পরিবেশ বজায় রাখা হয়, সেখানে বাউফলে এমন আলোকসজ্জার প্রয়োজনীয়তা কী, তা ভাবার বিষয়। তাঁর এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে অপরিকল্পিত বলে মন্তব্য করেন।

সমালোচনার মুখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আলোকসজ্জার উদ্দেশ্য উৎসবের আমেজ তৈরি করা নয়; বরং গভীর রাতে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন, ব্যবহৃত আলোর রং ছিল জাতীয় পতাকার লাল ও সবুজ, যা দিবসের মর্যাদার পরিপন্থী নয়। তাঁর মতে, বিভিন্ন স্থানে আলপনা আঁকা হলে তা যেমন দৃষ্টিকটু মনে হয় না, তেমনি জাতীয় রঙে আলোকসজ্জাও বিতর্কের কারণ হওয়া উচিত নয়।

তবে প্রশাসনের এই ব্যাখ্যার পরও স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ সন্তুষ্ট নন। তাঁদের মতে, প্রয়োজনীয় আলোর ব্যবস্থা আরও সংযতভাবে করা যেত, যাতে দিবসের শোকাবহ পরিবেশ বজায় থাকত।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন