ছাত্রদল নেতা পুলিশকে বললেন, ‘বিএনপির লোক আপনি থানায় নিতে পারবেন না’
![]() |
| পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ছাত্রদল নেতা। গতকাল বৃহস্পতিবার | ছবি: সংগৃহীত |
‘বিএনপির লোক আপনি থানায় নিতে পারবেন না। তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত মানছি, অন্য কিছু না। আমরা গণঅধিকার করি না, বিএনপি করি। দুই আসামিকেই নিতে হবে।’—পরোয়ানাভুক্ত এক ছাত্রদল নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে এমন কথা বলছেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশার ও তাঁর অনুসারীরা। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও স্থানীয় ছাত্রদল নেতা রাকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে যান দশমিনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম। এ সময় তাঁকে গ্রেপ্তারে বাধা দিয়ে পুলিশকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশার এবং আসামির অনুসারী প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যক্তি। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে পুলিশ সদস্য ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের মধ্যে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা চলে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পরে অতিরিক্ত পুলিশের সহায়তায় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই গ্রেপ্তারের জেরে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক হাসান মাহামুদের ওপর হামলা চালান আসামির অনুসারীরা। একই সময়ে উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সদস্যসচিব মিলন মিয়ার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও ভাঙচুর করা হয়। আহত হাসান মাহামুদ বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।
দশমিনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিগত সময়ের একটি মামলায় গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর আদালত ছাত্রদল নেতা রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে গেলে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশার ও তাঁর অনুসারীরা বাধা দিয়ে আসামিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। উত্তেজনা তৈরি হলে আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাই। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ আসার পর আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসি।’

Comments
Comments