ইবিতে মোনাজাতে জিয়াউর রহমানের নাম না নেওয়ায় হট্টগোল
![]() |
| ছাত্রদলের তোপের মুখে দ্বিতীয়বার মোনাজাত করেন ইমাম। শুক্রবার দিবাগত রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে | ছবি: সংগৃহীত |
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ভাষাশহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় আয়োজিত দোয়া মোনাজাতে জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণ না করায় হট্টগোল ও বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। পরে ছাত্রদলের তোপের মুখে দ্বিতীয়বার মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর জিয়া পরিষদ, কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি, বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ, হল, শাখা ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে ভাষাশহীদদের সম্মানে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং দোয়া মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব আশরাফ উদ্দিন খান। তবে মোনাজাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম নিতে তিনি ভুলে যান। এতে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হন এবং অন্তত ১০ মিনিট ধরে হট্টগোল ও বাগ্বিতণ্ডা চলে। পরে ছাত্রদলের দাবির মুখে দ্বিতীয়বার মোনাজাত করা হয়। এ সময় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্যসচিব মাসুদ রুমী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলামসহ অন্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম মোনাজাতে বলা হয়নি। এটি সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত বলে আমি মনে করি। ইমাম সাহেব ভালো মানুষ, তিনি আগে কখনো এমন ভুল করেননি। আমাদের ধারণা, বিশ্ববিদ্যালয় উদযাপন কমিটি ও প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে নামটি বাদ দিয়েছে। তাই আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি।’
এ বিষয়ে ইমাম আশরাফ উদ্দীন বলেন, ‘আমার ভুল হয়েছিল, তাই পরে আবার মোনাজাত করা হয়েছে। সহ-উপাচার্য মোনাজাতের আগে দেশ, নতুন সরকার ও বিরোধী দলের জন্য দোয়া করতে বলেছিলেন। এ ছাড়া যতদূর মনে পড়ে অন্য কোনো নাম বলেননি।’
একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও প্রক্টর শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আমি জিয়ার সৈনিক এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁর আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করছি। আমাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগটি ভিত্তিহীন। ইমাম সাহেব মোনাজাতে ভুলবশত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করেননি। পরে ছাত্রদল প্রতিবাদ জানালে তিনি ভুল স্বীকার করে পুনরায় মোনাজাত করেন এবং আমরাও তাতে অংশ নিই।’
সহ-উপাচার্য এয়াকুব আলী জানান, ‘দোয়ার আগেই আমি খতিবকে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়াসহ নতুন সরকারের দায়িত্বশীলদের জন্য দোয়ার কথা বলেছিলাম। যেকোনো কারণেই হোক তিনি হয়তো ভুলে গেছেন। মানুষের ভুল হতেই পারে, এটি নিয়ে হইচই করার কিছু নেই। পরে ছাত্রদের দাবিতে পুনরায় দোয়া করা হয়েছে।’

Comments
Comments