[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত, সুবিধা পাবেন ১২ লাখ কৃষক

প্রকাশঃ
অ+ অ-
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

শস্য, ফসল, মাছ চাষ ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা মওকুফ হবে। এতে সারা দেশের প্রায় ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।

বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ নেওয়ার পর এর পরিমাণ সুদসহ যত টাকাই হোক না কেন, তার পুরোটা মওকুফ করা হবে।

লিখিত বক্তব্যে সচিব জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শস্য, ফসল, মাছ চাষ ও পশুপালন খাতে এই ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতের ভিত্তিকে আরও মজবুত করা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের বরাত দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর কাছে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কৃষকদের ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এই পুরো টাকাই মওকুফের আওতায় আসবে। এর ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা ঋণের দায় থেকে মুক্তি পাবেন, যা তাঁদের কাজে আরও উৎসাহ জোগাবে এবং দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে।

নাসিমুল গনি আরও বলেন, ঋণের কিস্তি দেওয়ার টাকা এখন কৃষকেরা উন্নত মানের বীজ কেনা বা আধুনিক সেচ প্রযুক্তিতে কাজে লাগাতে পারবেন। ঋণের বোঝা না থাকায় তাঁরা নতুন উদ্যমে চাষাবাদ শুরু করতে পারবেন। এছাড়া এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কৃষকদের ঋণের মান বা 'ক্রেডিট রেকর্ড' ভালো হবে। ফলে তাঁরা ব্যাংক থেকে আবারও কম সুদে ঋণ নিতে পারবেন, যা তাঁদের গ্রাম্য মহাজনদের চড়া সুদের হাত থেকে বাঁচাবে।

সচিবের মতে, ঋণের চাপ কমে যাওয়ায় কৃষকেরা চাষাবাদ ও পশুপালনে আরও আগ্রহী হবেন। এতে জাতীয় উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে। এর ফলে গ্রাম থেকে শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে এবং গ্রামীণ বাজারে জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এর আগে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ মেয়াদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছিল। সেই উদ্যোগ কৃষকদের কষ্ট লাঘব ও উৎপাদন বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন