‘হয়রানি’ বন্ধ না করলে ১৩ তারিখের পর ‘ব্যবস্থা করার’ হুমকি বিএনপি নেতার
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হয়রানির অভিযোগ তুলে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। এই বক্তব্য তিনি প্রকাশ্য জনসভায় দিয়েছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা সমালোচনার মুখে পড়েছে।
অভিযুক্ত নেতা সাইফুল ইসলাম ওরফে মার্শাল রাজশাহী জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক প্রামাণিক সভার সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন আসনটির বিএনপি প্রার্থী ডি এম ডি জিয়াউর রহমান।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাইফুল ইসলাম প্রশাসন ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, বাগমারায় বিএনপির সমর্থকদের হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি শুধু একটা কথা বলতে চাই। এখানে যদি কোনো প্রশাসন, এনএসআই, ডিজিএফআইয়ের কেউ থাকেন, তাহলে একটু মনোযোগ দিয়ে শুনুন। কয়েক দিন ধরে আমরা লক্ষ্য করেছি, অন্য কোথাও কোনো ঘটনা ঘটেনি; শুধু বাগমারার মাটিতে বিএনপির সমর্থকদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমি পরিষ্কার করে বলছি, যদি আজ থেকে এসব হয়রানি বন্ধ না হয়, তাহলে ১৩ তারিখের পরে আমরাও ব্যবস্থা নেব।’
জেলা বিএনপির এই নেতা জানান, জেলা কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং সুষ্ঠু ভোট চাইলে কোনো দলের প্রতি পক্ষপাত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেননি, কী ধরনের হয়রানি বা কারা হয়রানির শিকার হয়েছেন।
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, বাগমারার পরিবেশ শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। কিছু আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটিকে জানানো হয়েছে। উভয় প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ রয়েছে।
একই মন্তব্য করেছেন বিএনপির প্রার্থী ডি এম ডি জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, বাগমারায় সমান সুযোগ রয়েছে।
বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা ওই জনসভায় বিএনপি নেতা কামাল হোসেন, আবদুস সোবহান, যুবদল নেতা রেজাউল করিমসহ অন্যানারা বক্তব্য দেন।

Comments
Comments