আমার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত: চসিক মেয়র
![]() |
| চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে একটি খেলার মাঠ উদ্বোধনে যান সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। আজ দুপুরে তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন দাবি করেছেন, আদালতের রায় অনুযায়ী তাঁর পদের মেয়াদ ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে তিনি চান এর আগেই দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
রোববার দুপুরে নগরের হালিশহরে একটি খেলার মাঠ উদ্বোধনের সময় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সিটি করপোরেশনের বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন আলোচনার বিষয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে শাহাদাত হোসেন এই জবাব দেন। দেশের সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে বর্তমানে একমাত্র তিনিই মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অন্যান্য সিটি করপোরেশনের মেয়রের মতো তাকেও অপসারণ করা হয়। অপসারিত মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী, ওই পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ আজ শেষ হচ্ছে।
২০২১ সালের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শাহাদাত হোসেন। এরপর ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালত তাঁকে মেয়র ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ের পর নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করলে তিনি ওই বছরের ৩ নভেম্বর শপথ নেন এবং ৫ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই আইনে মেয়র ও পরিষদের মেয়াদ এবং নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আলাদা ধারা রয়েছে। আইনের ৬ ধারায় বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ হবে প্রথম সভা হওয়ার তারিখ থেকে পাঁচ বছর।
এর আগে ২০১৫ সালের এপ্রিলে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। ২০২০ সালের ২৯ মার্চ পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা প্রায় এক বছর পিছিয়ে যায়। আ জ ম নাছির উদ্দীনের মেয়াদ শেষ হলে ওই সময় ছয় মাসের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, রেজাউল করিম চৌধুরীর পুরো মেয়াদটিই আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছেন। তাই তিনি যেদিন শপথ নিয়েছেন, সেদিন থেকে তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শুরু হয়েছে। সেই হিসাবে ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বরের আগে তাঁর মেয়াদ শেষ হবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার তাঁকে যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট দিয়েছে, সেটির মেয়াদও পাঁচ বছরের। তাই পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
২০২৯ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে প্রশাসক নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, একজন প্রশাসককে সরিয়েই আমি দায়িত্ব নিয়েছি। চট্টগ্রামে আগে প্রশাসক ছিলেন, তাঁকে সরিয়ে আমাকে মেয়র করা হয়েছে। তাই পুনরায় প্রশাসক দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমি চাই একটি নির্বাচন হোক। যে নির্বাচনের জন্য আমি অনেক বছর ধরে অপেক্ষা করছি এবং আমি আমার জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চাই।’
মেয়র আরও বলেন, ‘আমি কোনো প্রশাসক নই, আমি একজন মেয়র। যেহেতু আমি বাংলাদেশের একমাত্র মেয়র এবং আদালতের রায়ে আমাকে এই পদে ঘোষণা করা হয়েছে—এখানে অন্য কেউ আমাকে বসায়নি। আদালত ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। তাই চাইলে আমি ২০২৯ সাল পর্যন্ত থাকতে পারব। তবুও আমি বলছি যে, আমি নির্বাচন চাই। এখন এটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যে তারা কীভাবে নির্বাচন করবে। আমার আবেদনের ভিত্তিতে তারা এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠিও দিয়েছে।’
সারা দেশেই সিটি করপোরেশন নির্বাচন হওয়া উচিত মন্তব্য করে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি মনে করি চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশনে নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। প্রতিটি ওয়ার্ডে কোনো নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। তাই আমি মনে করি, সারা দেশের সিটি করপোরেশনগুলোতে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা উচিত।’

Comments
Comments