ফখরুল স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হওয়ার খবরে ঠাকুরগাঁওয়ে উচ্ছ্বাস, মিষ্টি বিতরণ
বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নবগঠিত মন্ত্রিসভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে শপথ গ্রহণের পর জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আনন্দ উদ্যাপন করেন দলটির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা।
এর আগে বিকেলে রাজধানীতে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্রাঙ্গণে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অনুষ্ঠানটি জেলা বিএনপির কার্যালয়ে টেলিভিশনে সরাসরি দেখেন দলটির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। পরে সেখানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
জেলা বিএনপি কার্যালয়ের দেখভালকারী আনারুল ইসলাম জানান, শপথ শেষে তিনি দুই কেজি মিষ্টি এনে উপস্থিত লোকজনকে খাওয়ান। মির্জা ফখরুল মন্ত্রী হওয়ায় খুব আনন্দিত তিনি।
উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের মুদিদোকানি আবুল হাশেমও। তিনি বলেন, পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় জেলার মানুষ খুশি। তাঁর প্রত্যাশা, এর ফলে ঠাকুরগাঁওয়ের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে নতুন গতি আসবে।
জেলার প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় এলাকার উন্নয়নে কাজ করার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই দায়িত্ব পাওয়া উচিত ছিল। এতে জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। তিনি ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট পেয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৪৮ সালে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষকতা পেশায় প্রায় ১৭ বছর থাকার পর ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
২০০১ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিবের মৃত্যুর পর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন এবং ২০১৬ সালে মহাসচিব নির্বাচিত হন।

Comments
Comments