আওয়ামী লীগ কার্যালয় খুলে পতাকা উত্তোলন, পরে ‘গণশৌচাগার’ ঘোষণা
![]() |
| জামালপুরে বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সাইনবোর্ড ও পতাকা উত্তোলন। শনিবার সকালে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
১৮ মাস বন্ধ থাকার পর সকালে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। তবে বিকেলেই পতাকা নামিয়ে কার্যালয়টিকে ‘গণশৌচাগার’ ঘোষণা করেছেন ‘জুলাই ঐক্য বকশীগঞ্জ’ নামে একটি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সন্ধ্যার দিকে এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাতটার দিকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাজ্জাদ কাদিরের নেতৃত্বে পরিত্যক্ত কার্যালয়টিতে সাইনবোর্ড লাগানো হয় এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এই কাজ সেরেই তাঁরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
এর প্রতিবাদে বিকেল পাঁচটার দিকে ‘জুলাই ঐক্য বকশীগঞ্জ’ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে গিয়ে সাইনবোর্ড ও জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলেন। এরপর সাইনবোর্ডটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁরা কার্যালয়টিকে গণশৌচাগার ঘোষণা করে একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেন।
এই বিষয়ে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত শহিদুল ইসলাম বলেন, এরপর বগারচর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা বা কর্মী দলীয় কার্যালয় খোলার দুঃসাহস দেখালে তাঁদের সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। ওই কার্যালয়কে সাধারণ শৌচাগার (পাবলিক টয়লেট) ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে সারমারা বাজারে এই মিছিল বের করা হয়।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম। এ সময় বগারচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানাসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মিছিলটি সারমারা বাজার প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে পথসভায় বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ আবার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। কিন্তু শহীদ জিয়ার সৈনিকেরা বেঁচে থাকতে কোনো অপশক্তিকে ষড়যন্ত্র করতে দেওয়া হবে না।

Comments
Comments