[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ফরিদপুরে দরপত্র জমা দিতে বাধা, অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
বেলা তিনটার দিকে দরপত্র উন্মুক্ত করা হয়। মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে ফরিদপুর পৌর প্রশাসকের কার্যালয়ে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ফরিদপুর পৌরসভার হাটবাজার ও বাস টার্মিনালের ইজারার দরপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। দরপত্রদাতাদের অভিযোগ, সোমবার সকাল নয়টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে দল বেঁধে অবস্থান নিয়ে দরপত্র জমাদানে বাধা দেন তাঁরা।

ফরিদপুর পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পৌরসভা এলাকার ১৫টি হাটবাজার ও পৌর বাস টার্মিনালের বার্ষিক ইজারার লক্ষ্যে গত ১৮ জানুয়ারি দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং ২ ফেব্রুয়ারি সংশোধিত দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সংশোধিত দরপত্র বিক্রির শেষ সময় নির্ধারিত ছিল সোমবার পর্যন্ত এবং দরপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল মঙ্গলবার বেলা একটা পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে ৪১টি দরপত্র জমা পড়ে এবং বেলা তিনটার দিকে দরপত্র খোলা হয়। দরপত্র জমা দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পৌরসভা কার্যালয়ে আলাদাভাবে দুটি বুথ রাখা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার ও প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল থেকে বুথ দুটির আশপাশে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা অবস্থান করতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে দল নিয়ে অবস্থান করেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব গোলাম মোস্তফা (মিরাজ) এবং পৌরসভা কার্যালয়ে অবস্থান নেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। কেউ দরপত্র জমা দিতে এলে প্রবেশপথ থেকেই বাধা দেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একপর্যায়ে দরপত্র জমা দিতে না পেরে অনেকেই ফিরে যান।

দরপত্র জমা দিতে না পেরে আনিসুজ্জামান তুহিন নামের এক ঠিকাদার সরাসরি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, দরপত্র জমা দেওয়ার শুরু থেকেই দুটি বুথের সামনে ও আশপাশে তিনি বাধার মুখে পড়েন। তাঁর অভিযোগ, আগ্রহী সবাই দরপত্র জমা দিতে পারলে আরও অনেকে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারতেন। এতে স্বচ্ছতা থাকত। তবে কারা বাধা দিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলাউদ্দিন ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, 'বেলা একটার আগে টেপাখোলা গরুর হাটের দরপত্র জমা দিতে গিয়ে দেখি প্রচুর ভিড়। অফিসের প্রবেশপথেই শতাধিক ব্যক্তিকে অবস্থান করতে দেখা যায়। পরিবেশ দেখে অস্বস্তিবোধ করি, জমা না দিয়েই ফিরে আসি।'

মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব গোলাম মোস্তফা (মিরাজ) অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, 'আমি দুপুর সাড়ে ১২টায় নিজের কেনা দরপত্র জমা দিতে গিয়েছিলাম। ছেলেপেলের ভিড়ের মধ্যে আমি নিজেই দরপত্র জমা দিতে পারছিলাম না। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আমি যাওয়ার আগে কিছু হয়েছে কি না, জানা নেই। তবে আমি যাওয়ার পরে সবাইকে দরপত্র জমা দিতে বলেছি। এ ছাড়া পৌরসভার ওই দিকে কী হয়েছে বলতে পারব না।'

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'আমার নিজের একটি দরপত্র জমা দিতে পৌরসভায় গিয়েছিলাম। দরপত্র জমা দিতে কাউকে বাধা দেওয়ার কোনো ঘটনা সেখানে ঘটেনি।'

এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. সোহরাব হোসেন বলেন, 'সকাল থেকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সবাই দরপত্র জমা দিয়েছেন। কোনো বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাইনি। তবে নির্ধারিত সময়ের পর একদল জমা দিতে এসেছিল, তাদেরটা নেওয়া হয়নি। সব নিয়ম মেনেই স্বচ্ছভাবে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।'

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন