[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

কুড়িগ্রামে সম্পত্তির বিরোধে বাবার মরদেহ ৩০ ঘণ্টা আটকে রাখল সন্তানরা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
গতকাল বুধবার কুড়িগ্রামে পারিবারিক বিরোধের কারণে বাবার লাশ আটকে রাখা হয়েছিল প্রায় ৩০ ঘণ্টা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন    

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ প্রায় ৩০ ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে দুই পক্ষের সমঝোতা হওয়ার পর জানাজা ও দাফন শেষ হয়। নাগেশ্বরী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পয়রাডাঙ্গা বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত কারণে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মারা যান আজিজার রহমান (৭৫)। পরদিন বুধবার বেলা ১১টায় জানাজার সময় ঠিক করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। কিন্তু সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে বিবাদ শুরু হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে জানাজা হতে পারেনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আজিজার রহমান জীবিত থাকাকালে বসতভিটাসহ স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে টাইগারের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে প্রথম পক্ষের ছেলে আবদুল হাকিমের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানাজায় অংশ নিতে এলাকাবাসী জড়ো হলে হাকিম সম্পত্তির সমান ভাগের দাবি জানিয়ে দাফনে বাধা দেন। এতে জানাজা স্থগিত হয়ে যায় এবং মরদেহ কাফন পরা অবস্থায় বাড়ির আঙিনায় খাটিয়ায় পড়ে থাকে।

দিনভর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা দুই পক্ষকে নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেন। সন্ধ্যার পরও সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি গুমোট হয়ে ওঠে। অবশেষে রাত ১০টার দিকে সালিশি বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বসতভিটার ২১ শতাংশ জমির মধ্যে দুই ভাই ৮ শতাংশ করে পাবেন এবং বাকি অংশ পাবেন বোনরা। এছাড়া চাষাবাদের জমি আইনি প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠুভাবে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই মর্মে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামায় দুই পক্ষই সই করে। এরপর রাত ১১টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

এই ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বাবার দাফন আটকে রাখার ঘটনায় অনেকেই দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, জমিজমার বিষয় আদালতের মাধ্যমে সমাধান করা যেত। জন্মদাতা বাবার মরদেহ ৩০ ঘণ্টা ফেলে রাখা অত্যন্ত অমানবিক।

ঘটনাটি নিয়ে মৃত ব্যক্তির সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লা হিল জামান জানান, এ নিয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি, তাই বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন