ভোলার জামায়াত নেতার বাড়ির সামনে থেকে দেশি অস্ত্র উদ্ধার, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বাড়ির সামনে থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এক বস্তা দেশি অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।
ওই নেতার নাম মাওলানা নুরুল করিম। তিনি কুতুবা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির। জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগ, ভোলা-২ (দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও তাঁর লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন। তবে বিএনপি এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নুরুল করিমের বাড়ির সামনে থেকে মঙ্গলবার সকালে একটি বস্তায় রাখা জং ধরা ছুরি-কাঁচি, দা, বঁটিসহ বিভিন্ন ধরনের দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে নুরুল করিম বলেন, তাঁর মা প্রথমে অস্ত্রের বস্তাটি দেখতে পেয়ে বড় ভাইকে জানান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে বস্তাটি জব্দ করে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বেলা পৌনে একটার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলটি। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মাকসুদুর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে মাকসুদুর রহমান বলেন, সোমবার রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুই দফায় মাওলানা নুরুল করিমের বাসায় তল্লাশি চালায়। ওই সময় সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে তাঁর সত্তর বছর বয়সী মা ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সামনে এক বস্তা দেশি অস্ত্র পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর ধারণা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চলে যাওয়ার পর দুর্বৃত্তরা অস্ত্রগুলো সেখানে রেখে গেছে। মাকসুদুর রহমানের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অপচেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে ভোলা-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাওলানা মুফতি ফজলুল করিম ও মাওলানা নুরুল করিমসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে ভোলা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আকবর হোসাইন বলেন, ‘আমরা কেন জামায়াত নেতার বাড়ির সামনে অস্ত্র রেখে আসব? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করেছে।’
আকবর হোসাইন আরও বলেন, বিএনপি কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত নয় এবং নির্বাচনের নিয়ম লঙ্ঘন করেনি। বরং জামায়াতের কর্মীরা কাফনের কাপড় পরে লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে মিছিল করছেন।
এ ঘটনায় পুলিশ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম।

Comments
Comments