[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

রাজশাহীতে দিনমজুর হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

প্রকাশঃ
অ+ অ-
রাজশাহীতে গোলাম মোস্তফা হত্যাকাণ্ডে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মিছিল হয়েছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরের বিনোদপুর বাজারে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন    

রাজশাহী নগরে গোলাম মোস্তফা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন তাঁর পরিবার ও এলাকাবাসী। বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে নগরের বিনোদপুর বাজারে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে স্থানীয় এলাকা থেকে একটি মিছিল নিয়ে সেখানে জড়ো হন তাঁরা। এ সময় হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী নাদেরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাঁর স্বামী নির্দোষ ছিলেন এবং দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। তিন মেয়ের মধ্যে আড়াই মাস আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে এক মেয়ে মারা গেছে। এখন পরিবারে উপার্জনের আর কেউ নেই। তিনি প্রশাসনের কাছে স্বামীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

নাদেরা বেগম অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে তাঁর স্বামীকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে গুলি করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী মিলি আক্তার বলেন, আগের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের দু-তিন দিন আগে প্রতিপক্ষের লোকজন ‘একটি লাশ ফেলার’ হুমকি দিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা কাজ করেনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কয়েক দিন পার হলেও কেন এখনো খুনিদের গ্রেপ্তার করা হলো না?

গোলাম মোস্তফার ভাতিজা মনজুর হোসেন বলেন, ঘটনার বেশ কয়েক দিন কেটে গেলেও তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় না আনলে এলাকাবাসী আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

প্রতিবেশী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, মোস্তফা একজন সৎ ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। কোনো বিবাদে তিনি থাকতেন না। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এই হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাত আটটার দিকে নগরের ডাঁশমারী খোঁজাপুর কবরস্থানের প্রাচীরের পাশে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন গোলাম মোস্তফা (৫০)। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় গত রবিবার সকালে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. উকিল, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুল মোল্লা ও শিহাব ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছেন নিহতের স্ত্রী নাদেরা বেগম।

মামলার বিবরণ ও স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে নিহতের ভাতিজা চঞ্চলকে কেন্দ্র করে একটি বিরোধের সূত্রপাত হয়। খোঁজাপুর মোড়ে একটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। ওই সময় দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি মামলা করে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

এই বিষয়ে নগরের মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, আসামিরা সবাই পলাতক থাকায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন