শহীদ মিনারে ‘শেখ হাসিনার পক্ষে’ শ্রদ্ধা নিবেদন
![]() |
| কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন মিষ্টি সুভাষ ও তাঁর সঙ্গীরা। এ সময় তাঁদের হাতে থাকা পুষ্পস্তবকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নাম সংবলিত কাগজ দেখা যায় | ছবি: ভিডিও থেকে |
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন কয়েকজন ব্যক্তি। দুপুর ১২টার দিকে মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক রেখে তাঁরা এই শ্রদ্ধা জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, পুষ্পস্তবক হাতে পাঁচজন ব্যক্তি শহীদ মিনারের বেদির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বঙ্গমাতা সাংস্কৃতিক জোটের নেতা মিষ্টি সুভাষ। তিনি গত দেড় বছরে আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে কয়েকবার হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও গিয়েছিলেন।
শহীদ মিনারে তাঁরা যে পুষ্পস্তবকটি নিয়ে গিয়েছিলেন, তার মাঝখানে সাদা কাগজে লেখা ছিল—‘জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি’।
এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা। সেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি ইউনিটের নেতা-কর্মীদের ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানের মুখে ফুল ও ব্যানার রেখেই তাঁদের এলাকা ত্যাগ করতে হয়। তবে শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া ওই পাঁচজন কোনো বাধার মুখে পড়েননি।
সন্ধ্যায় মিষ্টি সুভাষ বলেন, “পুষ্পস্তবকের মাঝে থাকা সাদা কাগজটি আমার কোমরে গোঁজা ছিল। সেটি বের করার সময় একজন দেখে ফেলেন এবং অন্যদের বলেন, ‘দ্যাখ দ্যাখ, শেখ হাসিনার শ্রদ্ধাঞ্জলি দিচ্ছে’। তখন আমি পাল্টা চড়াও হলে ওই ব্যক্তি চুপ হয়ে যান।” সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি জানান, রুবেল, রায়হান ও হাসিব তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত বছরের মে মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। একই মাসে দলটির রাজনৈতিক নিবন্ধনও স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। পাশাপাশি পূর্বাচলের প্লট দুর্নীতির একাধিক মামলায় তাঁর বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা ভারতে অবস্থান করছেন। দেশে থাকা নেতারাও নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচিতে আসতে পারছেন না। তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাঝে মাঝে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করেন দলটির নেতা-কর্মীরা। এসব কর্মসূচি থেকে পুলিশ বিভিন্ন সময় তাঁদের গ্রেপ্তারও করেছে।
শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের মিষ্টি সুভাষ বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামী দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর নতুন ষড়যন্ত্র করছে।”
উল্লেখ্য, ২৪-এর অভ্যুত্থান ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে গত রাতে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
জামায়াত আমিরের শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টিকে ‘প্রতারণার কৌশল’ হিসেবে মন্তব্য করে মিষ্টি সুভাষ বলেন, “শহীদ মিনারে জামায়াতের শ্রদ্ধা জানানো আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। এটি জাতির সঙ্গে নতুন প্রতারণা।”
মিষ্টি সুভাষ প্রথম আলোচনায় আসেন ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। সেদিন শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তিনি হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন। এরপর একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক হন তিনি। পরে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দুই দফায় প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন তিনি।

Comments
Comments