[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

যাদুকাটা নদীর তীরে শিমুলবাগানে বসন্ত উৎসব

প্রকাশঃ
অ+ অ-
বসন্ত উৎসবে সংগীতের তালে তালে নৃত্য পরিবেশন করছেন একদল শিল্পী। আজ শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শিমুলবাগানে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

‘বসন্তের ফুল যত, যাবো মোরা দুজনে কুড়াতে...’। পয়লা ফাল্গুন, বসন্তকাল। শিমুলগাছ ফুলে ফুলে লাল হয়ে আছে। ঝরা ফুলে লাল হয়ে আছে সবুজ ঘাসের জমিন। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শিমুলবাগানের এমন দৃশ্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। বসন্তকে বরণ করতে এখানে দিনব্যাপী বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর পশ্চিম পাড়ে মানিগাঁও এলাকায় এই শিমুলবাগান অবস্থিত। যাদুকাটা নদীর তীর ঘেঁষে থাকা এই বাগান এখন অনেকের কাছে প্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। এখানে এলে একই সঙ্গে দেখা মেলে হাওর, নদী ও পাহাড়ের। জেলা শিল্পকলা একাডেমি ২০২৩ সাল থেকে সুনামগঞ্জের চোখজুড়ানো এই শিমুলবাগানে বসন্ত উৎসব আয়োজন করে আসছে।

জেলা সংস্কৃতি কর্মকর্তা আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী জানালেন, বেলা ১১টায় উৎসবের উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের ‘বসন্ত বাতাসে সই গো...’ গান দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। এবার উৎসবে সুনামগঞ্জের প্রায় ২০০ শিল্পী অংশ নিয়েছেন। সংগীত, নৃত্য, কবিতা, আদিবাসী ও পাহাড়ি নৃত্য, বাউল গানসহ লোক–ঐতিহ্যের সব আয়োজন জমে উঠেছে উৎসবে।

বসন্তবরণে শিমুলবাগান নতুন রূপে সাজে উঠেছে। বাগানজুড়ে গাছের ডালে থোকা থোকা ফুল, পাখির কলরব। পাশেই নদীর কলতান। ফুল, পাখি আর বসন্তের হাওয়ায় মন খুশি হয়ে ওঠে। শিমুলবাগানে ফুল ফোটার অপেক্ষায় থাকেন অনেকে। কেউ কেউ অপেক্ষা করেন পয়লা ফাল্গুনের। বাসন্তী সাজে ছুটে আসেন যাদুকাটা নদীর তীরের এই শিমুলবাগানে। কেউ আসে পরিবার নিয়ে, কারও সঙ্গে থাকে প্রিয় মানুষ। কেউবা একা এসে প্রকৃতির মধ্যে নিজেকে খুঁজে পান।

বিশেষ এই দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটক আসেন। বাগানে ঘুরে বেড়ান, ছবি তোলেন। তরুণেরা দল বেঁধে গানে মাতেন। শাহ আবদুল করিম, হাছন রাজা ও দুর্বিন শাহের গানের সুর ছড়িয়ে পড়ে বাগানজুড়ে। কেউ গাছের ছায়ায় প্রিয় মানুষের হাত ধরে উদাস হন। কেউ আবার নিরিবিলি বসে সময় কাটান, ঝরে পড়া ফুল কুড়ান। ভালোবাসার গল্পে কাটে তাঁদের সকাল–দুপুর। শুধু বড়রা নয়, শিশুরাও আসে শিমুলবাগানে। আনন্দে মাতে তারা—দৌড়াদৌড়ি, ঘোড়ায় চড়া, দোলনায় দোল খাওয়া, পাহাড় দেখা—সবই চলে।

স্থানীয় বাসিন্দা, কবি ও আলোকচিত্রী অমিয় হাসান জানালেন, এই বাগান গড়ে ওঠার গল্প। ২০০১ সালে এলাকার একজন বৃক্ষপ্রেমী ও সমাজকর্মী প্রয়াত জয়নাল আবেদীন বাগানটি গড়ে তোলেন। তাঁর উত্তরসূরিরা বাগানের নাম দিয়েছেন ‘জয়নাল শিমুল বাগান’। ৩০ একর জায়গাজুড়ে এই বাগানে রয়েছে প্রায় তিন হাজার গাছ। বলা হয়, এটি দেশের সবচেয়ে বড় শিমুলবাগান। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই ফুল ফুটতে শুরু করে। মাসজুড়েই গাছে ফুল থাকে। এরপর ধীরে ধীরে ঝরে পড়ে। একসময় গাছে নতুন পাতা গজায়, তখন বাগান সবুজে ঢেকে যায়।

বাগানে ছড়িয়ে থাকা শিমুল ফুল। সম্প্রতি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শিমুলবাগানে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

প্রয়াত জয়নাল আবেদীনের ছেলে রাখাব উদ্দিন জানিয়েছেন, এই সময় বাগানে অনেক পর্যটক আসেন। তাদের সুবিধার জন্য বাগানে ক্যানটিন চালু করা হয়েছে এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকেও এখানে একটি গেস্টহাউস করা হয়েছে। পাশাপাশি বাগানের সৌন্দর্যবর্ধনসহ আরও কিছু কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন