জামায়াত ভোটকেন্দ্রে বাঁশের লাঠি জমা করছে, অভিযোগ জোনায়েদ সাকিরের
![]() |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির সংবাদ সম্মেলন। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা সদরের একটি রেস্তোরাঁয় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি অভিযোগ করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে বাঁশের লাঠি বা দেশি অস্ত্রশস্ত্র জমা করছেন, যাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা যায় এবং ভোট বানচাল করা সম্ভব হয়। মঙ্গলবার বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এই অভিযোগ জানান।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও আমরা বিভিন্ন ধরনের আশঙ্কার কথা শুনছি। সারা দেশে নির্বাচনের তদারকি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। আমরা দেখছি, গত দুই দিনে পরিস্থিতি হঠাৎ অবনতি ঘটানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বিভিন্ন জায়গায় বলছেন যে তারা ভোটকেন্দ্র দখল ও ভোট কারচুপির চেষ্টা রুখতে সবাইকে বাঁশের লাঠি নিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসতে বলছে।’
তিনি আরও জানান, ‘গতকাল বাঞ্ছারামপুরে একটি অটোতে বেশ কিছু বাঁশ কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং বিভিন্ন জায়গায় জমা করা হচ্ছিল, যাতে অনেকগুলো কেন্দ্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো সম্ভব হয়। ওই অটোর সঙ্গে জামায়াতের ব্যানারও ছিল। পুলিশ যখন অটোটি আটক করে, তখন ইউনিয়ন পর্যায়ের একজন জামায়াত নেতা তাকে ছাড়িয়ে আনতে এসেছিলেন। এর মানে হলো, প্রতিদ্বন্দ্বী দল পরিকল্পিতভাবে ভোটকেন্দ্রে বাঁশের লাঠি এবং দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইছে।’
সংবাদ সম্মেলনে সাকি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও উসকানিমূলক, শুধুমাত্র অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা। আমরা বলছি, বাঞ্ছারামপুরের প্রতিটি ভোটার নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাবে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। এখানকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন জনতার ভোটেই। আমরা চাই সুষ্ঠু নির্বাচন হোক, এবং আমরা সেই জন্য প্রস্তুত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে দিচ্ছি। আমরা শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। ইতিমধ্যে আমরা কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের খবর পেয়েছি, যেখানে এমন কর্মকাণ্ড ঘটতে পারে। তারা আশপাশে ব্যবস্থা নিয়েছে এবং পেশিশক্তিকে যুক্ত করলে যদি উচ্ছৃঙ্খলতার চেষ্টা করে, সাধারণ মানুষ তা গ্রহণ করবে না। আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি, তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।’ এই সময় তিনি ১২টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের নামও পড়ে শোনান।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মুসা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস, যুগ্ম সাধারণ আবুল ইসলাম সাজ্জাত, জেলা বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ মহসীন, যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলার সদস্য সালেহ মুসা, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Comments
Comments