[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

বগুড়ায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে দুজন আটক

প্রকাশঃ
অ+ অ-
বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদের চোখ গুরুতর জখম হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

বগুড়া–৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে আটক করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। সোমবার রাত ১১টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা–মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে থালতা–মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদের চোখ মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্য ব্যক্তিরা হলেন—বিএনপি নেতা মাসুদ রানার ভাই রবিউল ইসলাম, দাঁড়িপাল্লার কর্মী ও থালতা–মাঝগ্রাম ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বেলাল হোসেন এবং জামায়াতের কর্মী ফারুক হোসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্থানীয় নেতা বেলাল হোসেন ও জামায়াত কর্মী ফারুক হোসেনকে আটক করেন ধানের শীষের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে কিছু টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার বাড়িতে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলের একটি বহর মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়িতেও হামলা করা হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায় এবং দাঁড়িপাল্লার সমর্থকেরা আটকে রাখা বেলাল ও ফারুককে ছিনিয়ে নিয়ে যান।

এই ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করে মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাসুদ রানার ছেলে কলেজছাত্র সিয়াম আকন্দ। তিনি অভিযোগ করেন, ‘জামায়াত–শিবিরের নেতা-কর্মীরা মধ্যরাতে আমাদের বাড়িসহ বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাবা–মাসহ পরিবারের সদস্যদের বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁরা আমার বাবার চোখে আঘাত করেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম এবং বগুড়া–৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, জামায়াত–শিবিরের কয়েক শ সমর্থক দেশি অস্ত্র নিয়ে বিএনপি নেতাদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন। তাঁরা বসতবাড়ি ভাঙচুর করে আটক কর্মীদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল। তিনি বলেন, ‘টাকা বিতরণের অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন। কর্মীরা লিফলেট বিতরণ করতে গেলে তাঁদের আটকে রেখে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে অন্য কর্মীরা তাঁদের উদ্ধার করতে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে রাতেই প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ধানের শীষের কর্মীরা জুলাই যোদ্ধা আসাদুল্লাহ আল গালিবের ওপরও হামলা করেছেন।

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ধানের শীষের সমর্থকেরা দাঁড়িপাল্লার দুই কর্মীকে আটকে রেখেছেন—এমন খবর পেয়ে জামায়াত কর্মীরা সেখানে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় হামলা, ভাঙচুর বা সংঘর্ষের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন