[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ঠাকুরগাঁওয়ে ধুমধাম করে বট-পাকুড়ের বিয়ে, পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
বট ও পাকুড়গাছের বিয়ে। শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের কিসমত পাহাড়ভাঙ্গা গ্রামে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

চারপাশে বর্ণিল সাজ। ভেসে আসছে ঢাকঢোল আর সানাইয়ের সুর। আত্মীয়স্বজন ও অতিথিদের আগমনে চারদিকে উৎসবমুখর পরিবেশ। কোনো মানুষের বিয়ে নয়, আয়োজনটি ছিল বট ও পাকুড়গাছের বিয়েকে ঘিরে। যেখানে বটগাছ কনে আর পাকুড়গাছ বর।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের কিসমত পাহাড়ভাঙ্গা গ্রামে শুক্রবার এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। সনাতন ধর্মীয় রীতিতে মানুষের বিয়ের মতো করেই সব আয়োজন করা হয়। এই উৎসব দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষের ঢল নামে।

আয়োজকেরা জানান, প্রকৃতি ও মানুষের মঙ্গল কামনায় এই বিয়ের আয়োজন। বিয়ের বেশির ভাগ খরচ বহন করেছেন বর-কনের অভিভাবকেরা। পাশাপাশি ভক্তদের দান-দক্ষিণাও ছিল।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় বৃহস্পতিবার গায়েহলুদ দিয়ে। শুক্রবার দুপুরে মূল অনুষ্ঠানে দেখা যায়, কালীমন্দিরের পাশের পুকুরপাড়ে থাকা পাকুড়গাছকে সাদা ধুতি এবং বটগাছকে লাল-হলুদ শাড়ি ও ফুলের মালা পরানো হয়েছে। আলপনা আঁকা বিয়ের মণ্ডপে রাখা হয়েছে ধান, দুর্বা, হলুদ, সিঁদুর, ধূপকাঠি ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি। পুরোহিতের মন্ত্রের সঙ্গে চলছে উলুধ্বনি। বাজছে সানাই, ঢাকঢোল ও কাঁসর। দুপুর আড়াইটার দিকে ধর্মীয় রীতিতে সাত পাকে বাঁধা পড়েন বর-কনে। আমন্ত্রিত অতিথিরা উপহার দিয়ে তাঁদের আশীর্বাদ করেন এবং অনুষ্ঠান শেষে ভোজের আয়োজন করা হয়।

পুরোহিত শুভন চক্রবর্তী বলেন, বট ও পাকুড় হিন্দুশাস্ত্রে পবিত্র গাছ। মোক্ষলাভ, প্রকৃতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা এবং মানুষকে গাছপ্রেমী করে তুলতেই এই আয়োজন।

বিয়েতে কনের বাবার দায়িত্ব পালন করেন চিলারং গ্রামের পরিমল চন্দ্র বর্মন (৫৫) এবং বরের পক্ষে সব দায়িত্ব সামলান বলরাম সরকার (৬০)। পরিমল চন্দ্র জানান, চার বছর আগে বট ও তিন বছর আগে পাকুড়গাছটি লাগানো হয়েছিল। বড়দের পরামর্শে প্রকৃতির মঙ্গলে তিনি এই আয়োজন করেছেন।

বলরাম সরকার বলেন, ‘বিয়ের উৎসবে কোনো কমতি রাখা হয়নি। আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীসহ প্রায় ৪০০ পরিবারকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে।’

ব্যতিক্রমী এই বিয়ে দেখতে আসা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘এত দিন শুধু গল্প শুনেছি। পরিচিত একজনের কাছে কার্ড দেখে কৌতূহলী হয়েই এখানে এসেছি।’

ঠাকুরগাঁওয়ের প্রবীণ শিক্ষাবিদ মনতোষ কুমার দে বলেন, এটি মূলত একটি লোকজ সংস্কৃতি। বট-পাকুড়ের বিয়ে আসলে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা দেয়। প্রকৃতিপ্রেম থেকেই মানুষ এমন আয়োজন করে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন