[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

সিলেটের ইফতার বাজারে বরাবরের মতো শীর্ষে আখনি ও পাতলা খিচুড়ি

প্রকাশঃ
অ+ অ-
সিলেটে রোজার প্রথম দিনেই জমে উঠেছে ইফতারির বাজার। নগরের বিভিন্ন এলাকার রেস্তোরাঁর সামনে ইফতারসামগ্রী বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জিন্দাবাজার এলাকা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

সিলেটের ইফতারির বাজারে বরাবরের মতো এবারও রোজাদারদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে পাতলা খিচুড়ি ও আখনি। বৃহস্পতিবার নগরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।

বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, আম্বরখানা, শাহি ঈদগাহ, উপশহর, সোবহানীঘাট, মীরাবাজার, শিবগঞ্জ, পাঠানটুলা, মদিনামার্কেট, সুবিদবাজার, লামাবাজার, তালতলা, কাজিরবাজার ও হুমায়ূন রশিদ চত্বর এলাকায় বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় দেদার ইফতারি কেনাকাটা চলছে। এসব এলাকার ফুটপাতেও অনেকে ইফতারির পসরা নিয়ে বসেছেন। প্রতিটি দোকানেই ছিল নানা পদের ইফতারি। তবে এর মধ্যে আখনি ও পাতলা খিচুড়িই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে।

পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট সিলেটের ট্রাস্টি আবদুল করিম চৌধুরী (কিম) বলেন, সুগন্ধি চাল ও মাংস দিয়ে আখনি রান্নার পদ্ধতি অনেকটা ঢাকার তেহারির মতো হলেও স্বাদের দিক থেকে এটি আলাদা। সিলেটের আখনির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ইফতারিতে সব সময় সিলেটিদের পছন্দের শীর্ষে থাকে আখনি। এ ছাড়া পাতলা খিচুড়ির কদরও এখানে অনেক। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

আগে সিলেটের পরিবারগুলোতে ইফতারের আয়োজনে ঘরোয়াভাবে আখনি ও পাতলা খিচুড়ি তৈরি করা হতো; এখনো তা-ই হয়। বাসাবাড়ির পাশাপাশি হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতেও এই দুটি পদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গত এক দশক ধরে সিলেটের ইফতার বাজারে নানা সুস্বাদু ও বৈচিত্র্যময় খাবারের পাশাপাশি আখনি, ভুনা খিচুড়ি ও পাতলা খিচুড়িও খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিক্রি করছে। অন্যান্য ইফতারির পাশাপাশি মানুষও বাজার থেকে আখনি ও খিচুড়ি কিনছেন।

নগরের একাধিক দোকান ঘুরে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকেই ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। প্রতিটি দোকানে অসংখ্য পদের পাশাপাশি আখনি ও পাতলা খিচুড়ি সমানতালে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও অবশ্য পাতলা খিচুড়ির পাশাপাশি ভুনা খিচুড়িও পাওয়া যাচ্ছে।

এ ছাড়া জিলাপি, ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, মুরগির শামি কাবাব, শিন্নি গরুর মাংস, মুরগির ঝলসানো মাংস (বারবিকিউ চাপ), পুডিং, ফিরনি, আলুর চপ, ডিমের চপ, শাকের বড়া, গরুর চাপ, গরুর জালি কাবাব, মুরগির টিক্কা, মুরগির পাকোড়া, মুরগির গ্রিল, মুরগির ডানা (উইংস), বটি কাবাব, শিক কাবাব, বিরিয়ানি, হালিম, মুরগির শাশলিক, ভাজা মুরগি (ফ্রাই চিকেন), গরুর পায়ের হালিম (নেহারি), গরুর কালাভুনা, মুরগির রোস্ট, মুরগির কাঠি, গরুর সুতি কাবাব, মুরগির ললিপপসহ নানা পদের ইফতারি দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে।

সাগরদিঘিরপার এলাকার বাসিন্দা খায়রুল হক বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে ইফতারি কিনতে এসেছেন জিন্দাবাজার এলাকার একটি দোকানে। সেখানে তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, প্রথম রমজানেই বাসায় কয়েকজন আত্মীয়স্বজনকে দাওয়াত করেছেন। ঘরে ইফতারি তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি বাজার থেকেও জিলাপি, ছোলা, বড়াসহ মুরগির মাংসের তৈরি কিছু ইফতারি কিনবেন। তবে সিলেটের ঐতিহ্য অনুযায়ী আখনি ও পাতলা খিচুড়ি ঘরেই তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিনের ইফতারে এই দুটি পদ তাঁদের থাকেই বলে তিনি জানান।

দোকানিরা জানিয়েছেন, প্রতি কেজি খাসির মাংসের আখনি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, গরুর মাংসের আখনি ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং মুরগির মাংসের আখনি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ভুনা খিচুড়ি ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা, বড় বাটি পাতলা খিচুড়ি ১২০ টাকা ও ছোট বাটি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অভিজাত রেস্তোরাঁগুলোয় এসব পদের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি।

সিলেট নগরের জিন্দাবাজার এলাকার পানসী রেস্তোরাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আহমেদ বলেন, সিলেটে প্রতিবছরই রোজাদারদের পছন্দের শীর্ষে থাকে আখনি ও পাতলা খিচুড়ি। রমজানের প্রথম দিন তাঁদের রেস্তোরাঁয় গড়ে ২০০ কেজি আখনি এবং ৫০ কেজি পাতলা খিচুড়ি প্রস্তুত করা হয়েছে। রোজার কয়েক দিন গেলে এই দুটি পদের চাহিদা আরও বাড়বে।

বন্দরবাজার এলাকার দুজন ভ্রাম্যমাণ ইফতার বিক্রেতা জানান, তাঁদের দোকানে জিলাপি, ছোলা, চপ, বেগুনি, পেঁয়াজু আর শাকের বড়া কিনতে অনেকেই এসেছেন। তবে আখনি ও পাতলা খিচুড়ি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। রোজাদারদের কাছে এই দুটি পদের কদর অনেক বেশি। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন