রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে অতিরিক্ত খরচ, স্বচ্ছতা প্রশ্নের মুখে
![]() |
| রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প | গ্রাফিক্স: পদ্মা ট্রিবিউন |
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ প্রকল্পে খরচ বাড়ছে প্রায় ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, কমা পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) ১১ জানুয়ারির সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় নতুন করে এই প্রস্তাব দিয়েছে কমা পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তিতে ২৬ হাজার ১৮১ কোটি ২৬ লাখ টাকার প্রস্তাব থেকে ৫৮৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা বাদ দিয়ে সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে।
পাবনার রূপপুরে প্রায় ৯ বছর ধরে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছে কমা প্রায় ৭২ শতাংশ কাজ শেষ হলেও লাগামহীন খরচ বৃদ্ধির প্রস্তাবে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। এত বড় ব্যয়ের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন হলে, রাজনৈতিক সরকার দিলে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে কমিশন।
রূপপুরের মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) নেওয়া হয়েছিল ২০১৬ সালের জুলাইয়ে, শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে। প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী এটি শেষ হবে ২০২৮ সালের জুনে। মূল ডিপিপিতে খরচ ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা, প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে সেটি ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৫ লাখ বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা করা হয়েছে, অর্থাৎ খরচ ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
যে খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ২৫ হাজার ৭৫৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা রাশিয়ার ঋণ সহায়তা; বাকিটা সংস্থান করবে সরকার। মূল ডিপিপিতে সরকারের অংশ ছিল ২২ হাজার ৫৩ কোটি টাকা, আর রাশিয়ার ঋণ সহায়তা ছিল ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ডিপিপি সংশোধনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রকল্পের কাজের পরিধিতে পরিবর্তন এসেছে। প্রকল্পের অগ্রগতি অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত মোট খরচ হয়েছে ৯৯ হাজার ৪০৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, আর এ সময়ে অগ্রগতি ৭১ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের সময় বিভিন্ন নতুন বিষয় সামনে এসেছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এর কমিশনিং কাজ চলছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করতে একটি সেবা চুক্তি এবং খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ চুক্তির আলোচনাও চলছে।
নতুন এই খরচের জন্য বিদেশি মুদ্রায় অর্থের প্রয়োজন হবে। এছাড়া, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী রাশিয়ার ঠিকাদারের বিদেশি কর্মীদের জন্য নির্মাণাধীন গ্রিননসিটি আবাসিক এলাকার অসমাপ্ত কয়েকটি ভবনসহ নতুনভাবে অধিগ্রহণ করা ৬.০৬ একর জমিতে কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, অনুমোদিত ডিপিপিতে প্রতি ১ মার্কিন ডলারের মূল্য ৮০ টাকা হিসেবে ধরা হয়েছিল। এরমধ্যে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে গেছে। এছাড়া, চুক্তিমূল্যের ১০ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ, কাস্টমস ডিউটি (সিডি), ভ্যাটসহ অনুমোদিত ডিপিপির কিছু খাতের বরাদ্দ শেষ হয়ে গেছে।
প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত ডিপিপি প্রস্তাবনায় অনুমোদিত ডিপিপির মোট ৩৮টি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ায় অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা ছিল। এজন্য মূল ডিপিপির বেশিরভাগ কাজ, সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) থেকে প্রাপ্ত কারিগরি, পরামর্শমূলক বা তদারকি সেবা, বিক্রেতা (ভেন্ডর) এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বাপশক) সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছিল।
দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ ও খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহসহ বিভিন্ন নতুন বিষয় সামনে এসেছে। এজন্য অনুমোদিত বরাদ্দে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়। সেই প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত সংশোধিত ডিপিপিতে মোট ১০টি নতুন অঙ্গে বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে এসব খাতে ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করছে রুশ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জেএসসি অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট। দুই দেশের যৌথ সমন্বয় কমিটির (জেসিসি) সভায় করোনা মহামারির প্রভাব, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, যন্ত্রপাতি ও মালামাল সরবরাহে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং নির্মাণের অগ্রগতি বিবেচনায় প্রকল্পের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ এবং ঋণচুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গেল বছরের ৩০ নভেম্বর পিইসি সভায় আন্তঃরাষ্ট্রীয় ঋণচুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। জেসিসি কমিটির সভায় ঋণচুক্তির সঙ্গে মিল রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজের মেয়াদ বাড়াতে জেনারেল কন্ট্রাক্টে অতিরিক্ত চুক্তি স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী, ইউনিট-২-এর প্রাথমিক হস্তান্তর সময়সীমা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
কিন্তু সংশোধিত ডিপিপিতে নতুনভাবে নির্ধারিত প্রাথমিক হস্তান্তরের তারিখ অনুযায়ী, জেনারেল কন্ট্রাক্টের কার্যাবলী এবং প্রকল্পের আওতায় এলসি (ঋণপত্র) মাধ্যমে নির্মাণব্যয়ের অর্থ পরিশোধের সুবিধা নিশ্চিত করতে, প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এর আগে বিভিন্নভাবে অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠেছিল প্রকল্পটির বিরুদ্ধে। প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় ‘বালিশকাণ্ড’ একটি আলোচিত বিষয়। অভিযোগ ছিল, অস্বাভাবিক মূল্যে বিভিন্ন ধরনের পণ্য কেনা হয়েছে। নানা সময়ে প্রকল্পের দুর্নীতির বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।
বালিশকাণ্ডে অভিযোগ অনুযায়ী, একটি বালিশ কিনে দেওয়া হয়েছিল ৫ হাজার ৯৫৭ টাকায়, খাটে তোলার মজুরি ছিল ৭৬০ টাকা, কমফোর্টারের দাম ১৬,৮০০ টাকা এবং বিদেশি চাদরের দাম প্রায় ৬,০০০ টাকা। বাজারমূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক দাম চোখে পড়ায় দুদক প্রায় ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগে দুই ঠিকাদার ও গণপূর্তের ১১ প্রকৌশলীসহ ১৩ জনকে আসামি করে চারটি মামলা করে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। যদিও সেই তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এরইমধ্যে প্রকল্পটি সংশোধনের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনে ২৫ হাজার কোটি টাকার ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। কমিটি এই ব্যয় বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক মনে করছে।
যদিও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি অনুমোদন করানোর জন্য কমিশনের ওপর চাপ দিচ্ছে বলে কমিশনের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন।
কমিশনে কোনো প্রস্তাব এলে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সেটি যাচাই-বাছাই করে ছাড়পত্র দেয়। এরপর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তা উপস্থাপন করা হয়। সাধারণত একটি পিইসি সভায় কোনো প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রণয়নের কাজ হয়। কিন্তু বড় প্রকল্প এবং অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকায়, দফায় দফায় পিইসি সভা করেও সমাধান বের করতে পারছে না কমিশন।
প্রথম দফায়, গত মাসের শেষ সপ্তাহে প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রকল্পটি একনেকে পাঠানোর জন্য চাপ দিতে থাকেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পটিতে উচ্চ সুদের বিদেশি ঋণ রয়েছে। তাই তাড়াহুড়া করে অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়। সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে তবেই অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। প্রায় চার ঘণ্টা সভা চলার পর, পরিকল্পনা কমিশন আরও একাধিক পিইসি সভা করার পরামর্শ দেয়।
এরপর বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় প্রকল্পটির ব্যয় যৌক্তিকীকরণের উদ্যোগ নেয়। তারা পর্যালোচনা করে ৫০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় কমিয়ে নতুন প্রস্তাব পাঠায় কমিশনে। ওই প্রস্তাবের ওপর ১১ জানুয়ারি ফের পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তবে এখনও প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবে নানা অসঙ্গতি রয়েছে বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন। এর মধ্যে রয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে আরও ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব, সংশোধনী প্রস্তাবে আর্থিক ও অর্থনৈতিক হিসাব সঠিকভাবে তুলে না ধরা এবং অবকাঠামো নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় সরকারের বিদ্যমান নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ না হওয়া। এজন্য প্রকল্পটি একনেকে পাঠানোর আগে আরও যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন বলে কমিশন মনে করছে। সে জন্য আরও পিইসি সভা করার প্রস্তাব রেখে সভা শেষ হয়।
কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবে অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও তাড়াহুড়া করে অনুমোদন করানোর চেষ্টা করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। সাধারণত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর একনেক সভা ও প্রকল্প অনুমোদনের সংখ্যা কমানো হয়। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তফসিল ঘোষণার পর নতুন প্রকল্প অনুমোদন এবং প্রকল্প সংশোধনের মাত্রা বাড়িয়েছে।
কমিশন মনে করছে, এত বড় ব্যয়ের সংশোধনী প্রস্তাব রাজনৈতিক সরকার অনুমোদন করলে বেশি যুক্তিযুক্ত হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘খরচ বাড়ছে না, বরং কমেছে। ২২ হাজার কোটি টাকা ছিল সরকারের তরফ থেকে, সেটা আরও ১৬০ বা ১৭০ কোটি টাকা কমেছে।’
ডলারের দাম বাড়ায় টাকার অঙ্ক কিছুটা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকল্পের শুরুতে ডলারের মূল্য ছিল ৮০ টাকা, এখন ১২৪ টাকা। আর যখন ডিপিপির প্রথম সংশোধনী করা হচ্ছে, তখন ডলারের মূল্য বেড়েছে। আর কিছু নয়।
দেশের বিদ্যুৎ খাত বর্তমানে ঋণের ফাঁদে পড়েছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিদ্যুৎ খাত একধরনের ঋণ ফাঁদে পড়েছে, যেখান থেকে বের হওয়া খুব কষ্টকর। এই বাড়তি অর্থ চাহিদা এবং যৌক্তিকতার কারিগরি পর্যালোচনা করা দরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগের সরকারের সময় যখন প্রকল্প শুরু হয়েছিল, তখন এর ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই ব্যয় কয়েক ধাপে সেই সরকারের সময়ই বাড়ানো হয়েছিল।’
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘সরকারের উচিত এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ খাতের জন্য আগামী পাঁচ বছরের আর্থিক পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা নেওয়া। খাতটিকে কীভাবে টেকসই করা যাবে এবং ঋণের বোঝা থেকে কীভাবে বের হওয়া যাবে—সেদিকে নজর দেওয়া। নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিকে এখন অগ্রাধিকার দেওয়া ঠিক হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের ক্ষেত্রে এক্সচেঞ্জ রেটেরও একটি প্রক্ষেপণ থাকে। দুর্ভাগ্য যে আমাদের ক্ষেত্রে টাকার দ্রুত অবমূল্যায়ন হয়েছে, যার চাপ এখন বহন করতে হচ্ছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রূপপুর নিয়ে এখন জটিল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নির্মাণের সময় থেকেই আমাদের প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এটি আমাদের ওপর বড় একটি চাপ সৃষ্টি করছে। বিলম্বের কারণে ২৫ হাজার কোটি টাকা বাড়তি খরচের কথা বলা হচ্ছে। যদি তিন বছর আগে বাস্তবায়ন করা হতো, খরচ সম্ভবত অর্ধেক হত।’
অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এর অর্থনৈতিক চুক্তিতে কী আছে, কেন অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে। যদি দ্রুত সমাধান না করা যায়, তবে আমরা অর্থনৈতিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হব।’

Comments
Comments