[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

নতুন পে-স্কেল ঘুষ-দুর্নীতি বাড়াতে পারে, যথাযথ জবাবদিহি জরুরি: টিআইবি

প্রকাশঃ
অ+ অ-
 ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ

সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির উদ্যোগ যৌক্তিক হলেও, অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার ক্ষমতা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, জনপ্রশাসন সংস্কার ও সরকারি সেবায় কার্যকর জবাবদিহি না থাকলে নতুন পে-স্কেল ঘুষ-দুর্নীতির প্রিমিয়াম বাড়ানোর হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে।

রোববার টিআইবি এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের পেশাগত উৎকর্ষ এবং জনগণের জন্য সেবার সহজ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে জনপ্রশাসনে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দায়বদ্ধতা জরুরি। সরকারি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে কার্যকর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথা, নতুন পে-স্কেল ঘুষ ও দুর্নীতির সুযোগ বাড়াবে।

জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। তবে আগের মতো ২০টি গ্রেড রাখা হবে। সর্বনিম্ন ধাপে বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ধাপে বেতন ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব এসেছে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গত বুধবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব সরাসরি প্রভাব ফেলবে ইতিমধ্যেই আর্থিক সংকটে থাকা সাধারণ মানুষের ওপর। প্রস্তাব অনুযায়ী বিপুল অর্থের যোগান নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রীয় ব্যয়ভার বহনের উপযুক্ত পরিবেশও তৈরি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের ব্যয় বাড়বে—সরকার কি এ বিষয়টি ভেবেছে? যদি ভেবে থাকে, পরিস্থিতি মোকাবিলার উপায় কী, তা জনগণের কাছে পরিষ্কার করা উচিত।

ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, জনগণের করের টাকায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হলেও ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়ম অনেক কর্মচারীর জন্য স্বাভাবিক হয়ে গেছে। অতীতে বেতন বৃদ্ধি সরকারি খাতে দুর্নীতি কমায়নি, বরং ঘুষ ও অবৈধ লেনদেন আরও বেড়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো এড়িয়ে যদি সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির নির্ভরযোগ্য উপায় বের করতে পারে, তবুও বিষয়টি বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যাবে না। তিনি বলেন, সরকারি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সব পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট আইন-কানুন ও বিধি প্রতিপালন বাধ্যতামূলক করার শর্তে এবারের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনা করলে জনগণ তা পরীক্ষামূলকভাবে হলেও একবারের জন্য মেনে নিতে পারে।

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, এর একটি প্রধান শর্ত হবে, সব পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীর আয়-ব্যয় এবং সম্পদের হিসাব প্রতিবছর হালনাগাদ করা ও তা প্রকাশ করা। অর্থাৎ, যারা প্রতিবছর তাঁদের আয়-ব্যয়ের ও সম্পদ বিবরণী হালনাগাদ করে প্রকাশ করবেন, শুধুমাত্র তাদের জন্য বেতন-ভাতা বৃদ্ধি প্রযোজ্য হবে। যারা প্রকাশ করবেন না, তাদের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে না। তিনি সরকারকে এ বিষয়ে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন