[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

জামায়াত কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ, আহত তিনজনের মধ্যে প্রার্থীর মেয়ে

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় বাবার পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে হামলার শিকার হন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. কামাল উদ্দিনের মেয়ে মারিয়া কামালসহ তিনজন | ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ভোলা-৪ (চরফ্যাশন–মনপুরা) আসনে নির্বাচনী প্রচারের সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এ কে এম কামাল উদ্দিনের মেয়ে মারিয়া কামালসহ তিনজনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা কামালের কর্মী–সমর্থকদের জড়িত থাকার অভিযোগ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা–কর্মীরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি করেছেন তাঁরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে চরফ্যাশন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী দাওয়াতি কার্যক্রম চলাকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে। মারিয়া কামালের নেতৃত্বে পাঁচ থেকে সাতজন নারী কর্মী ওই এলাকায় ভোটারদের কাছে দাওয়াত পৌঁছে দিচ্ছিলেন। এ সময় প্রার্থীর ছেলে মুহাম্মাদ তাহজিব এবং জেলা যুব আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদ তাঁদের সঙ্গে ছিলেন।

ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে মো. সোহেল হাওলাদার ও আলাউদ্দিন নামের দুই ব্যক্তি প্রচারণায় বাধা দেন এবং গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা মুহাম্মাদ তাহজিব ও ফয়সাল আহমাদকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরে প্রার্থীর মেয়ে মারিয়া কামালকেও ধাক্কা দেওয়া হয়। এ সময় বিএনপির লোকজন এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে জামায়াতের লোকজন আরও কর্মী–সমর্থকদের ডেকে এনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন। এ সময় ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের আরও লাঞ্ছিত করা হয় এবং তিনজন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন মারিয়া কামালসহ আহতদের উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বেলা দুইটার দিকে চরফ্যাশন প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেনের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানানো হয়।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন মুঠোফোনে জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন এবং ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছেন। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমিরকে ডেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসা করা হবে, যাতে কোনো ভুল–বোঝাবুঝি না থাকে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা কামাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক আন্দোলনের এক নেতা তাঁকে মুঠোফোনে ভয়েস রেকর্ড পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানালে তারা তদন্ত করে নিশ্চিত হয়েছে যে হুমকিটি ইসলামী আন্দোলনের লোকজনের পক্ষ থেকেই এসেছে। তাঁর দাবি, এই বিষয় আড়াল করতেই পরিকল্পিতভাবে হামলার নাটক সাজানো হয়েছে। তবে উভয় পক্ষকে ডেকে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা হবে বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহবুবুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। বিশেষ করে ইসলাম নামধারী একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে একজন নারীর গায়ে হাত তোলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক। তিনি দ্রুত জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ঘটনার পর অভিযুক্ত সোহেল ও আলাউদ্দিন মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াত আমির মীর মো. শরিফ বলেন, তাঁদের কোনো কর্মী যদি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী এ কে এম কামাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা বৈঠক বসার কথা রয়েছে।

ভোলা-৪ আসন
Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন