[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

শিবচরে মহাসড়কের ঢাল থেকে কৃষিবিদের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশঃ
অ+ অ-
মো. শহিদুল ইসলাম | ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরের শিবচরে মহাসড়কের ঢাল থেকে উদ্ধার হওয়া লাশটি কৃষিবিদ শহিদুল ইসলামের (৪২)। তিনি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সেরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সন্দেহ, অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

গত শুক্রবার বিকেলে শিবচরের ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের সূর্যনগর আন্ডারপাসের উত্তর পাশে রাস্তার ঢাল থেকে শহিদুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণা উন্নয়ন সহকারী হিসেবে বরিশালের আলেকান্দা এলাকায় কর্মরত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে শহিদুল ইসলাম ঢাকার গুলশান অ্যাভিনিউয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে পে–অর্ডারের কাজ শেষ করে বরিশালের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। ওই দিন দুপুরের পর থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সেদিনই তাঁর শ্বশুর আবু সালেহ উদ্দিন আহম্মেদ ঢাকার গুলশান থানায় অনলাইনে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর গত শুক্রবার বিকেলে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা সূর্যনগর এলাকা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করেন। পরে মাদারীপুর জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের সেরাজপুর গ্রামে তাঁর নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। আজ রোববার বেলা ১১টায় জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

শহিদুল ইসলামের স্ত্রী শাম্মী আকতার বলেন, ‘তিনি খুব সচেতন মানুষ ছিলেন। অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার খাওয়ার মানুষ তিনি নন। আমার সন্দেহ, হয়তো মলম বা অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে তাঁর এমন মৃত্যু হয়েছে।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানেরা এতিম হয়ে গেছে, আমিও স্বামীহারা হয়ে গেলাম। আমি চাই, আমার স্বামী কেন ও কীভাবে মারা গেল, সে রহস্য উন্মোচিত হোক।’

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শহিদুলের স্ত্রী শাম্মী আকতার দুই ছেলেকে নিয়ে বরিশালে থাকেন। তাঁদের বড় ছেলে সাইফান আবদুল্লাহ (১০) বরিশাল শহরের জাহানারা ইসরাইল স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। ছোট ছেলে সাদমান সাফিনের বয়স ৩ বছর।

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক ইজারত হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি তদন্ত কেন্দ্রে এনে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা যায়। তাঁর পকেটে নগদ ২ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়া গেছে। মৃতদেহের পাশে ছিল তাঁর পায়ের একজোড়া জুতা ও একটি কালো চশমা। শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘লাশটি কীভাবে এবং কারা রাস্তার ঢালে ফেলে গেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আজ রোববার শহিদুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করার কথা রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। ঘটনাটি আমরা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন