[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সহজ করতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বার্তা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেন | ছবি: ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস 

মার্কিন ভিসা বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ সহজ করতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি সফররত বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠকে এই আহ্বান জানান। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে গত মঙ্গলবার জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ ৩৮ দেশের নাগরিকদের অবশ্যই ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত দিতে হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসাবে)।

জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির ফলে আগামী দিনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে জেমিসন গ্রিয়ারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন খলিলুর রহমান। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানিসহ ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের দেশটিতে ভ্রমণ গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা বন্ডের কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে। তাই বাংলাদেশকে ভিসা বন্ডের আওতায় রাখার প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সহজ করতে জেমিসন গ্রিয়ারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

খলিলুর রহমান পাঁচ দিনের সফরে গতকাল সকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছান। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিনি জেমিসন গ্রিয়ার ছাড়াও সহকারী ইউএসটিআর ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন।

ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা মুঠোফোনে জানিয়েছেন, জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে আলোচনায় খলিলুর রহমান বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর অগ্রগতি জানান।

আলোচনায় খলিলুর রহমান বলেন, পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে বাংলাদেশ বাণিজ্যঘাটতি কমাতে বড় অগ্রগতি করেছে। এছাড়া চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধাপও ইতিমধ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রকে বর্তমানে কার্যকর থাকা ২০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক (রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ) কমানোর প্রস্তাব দেন। জেমিসন গ্রিয়ার এই প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন।

একই সঙ্গে জেমিসন গ্রিয়ার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহৃত পোশাকপণ্যের ওপর আরোপিত পারস্পরিক শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহার করার প্রস্তাবও গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।

উভয় পক্ষ একমত হন, দ্রুত কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয় নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন, যাতে পারস্পরিক শুল্কচুক্তিটি দ্রুত চূড়ান্ত ও কার্যকর করা যায়।

এছাড়া খলিলুর রহমান বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি তহবিলে প্রবেশাধিকার দেওয়ার অনুরোধও করেন।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এসব বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন