২৫ হাজার কোটি টাকার ক্রয় অনুমোদন দিল কমিটি
![]() |
| বাংলাদেশ সরকারের লোগো |
পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, সার, সয়াবিন তেল ও মসুর ডাল কেনার সাতটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এসব প্রস্তাবে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় হবে ২৪ হাজার ১৫০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। আর সার, সয়াবিন তেল ও মসুর ডাল কিনতে ব্যয় হবে ৪৪১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে চুক্তির আওতায় বিভিন্ন দেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৮২৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে চীনের পেট্রোচায়না ও ইউনিপেক, সংযুক্ত আরব আমিরাতের এনওসি, ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন, থাইল্যান্ডের ওকিউটি, মালয়েশিয়ার পিটিএলসিএল এবং ইন্দোনেশিয়ার বিপিএস। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ধরনের পরিশোধিত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করা হবে।
বৈঠকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির দুটি আলাদা প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি থেকে ৭ লাখ টন মারবান গ্রেডের অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৫ হাজার ৫৪২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে সৌদি আরামকো থেকে আমদানি করা হবে ৮ লাখ টন অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড তেল। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৩২০ কোটি ২২ লাখ টাকা।
ডিজেল আমদানির ক্ষেত্রেও একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৬১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। মোট ব্যয়ের একটি অংশ দেবে বিপিসি, আর বাকি অর্থ আসবে ব্যাংকঋণ থেকে।
ক্রয় কমিটির বৈঠক শেষে ভারত থেকে ডিজেল আমদানির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে ১৫ বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়। এই চুক্তি বর্তমান সরকার করেনি। আগের সরকারের সময়ে করা চুক্তির ধারাবাহিকতায়ই এ আমদানি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনা হচ্ছে, যার ব্যয় হবে ১৯১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। থাইল্যান্ড থেকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল কেনা হবে। সব ধরনের খরচসহ প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১৬২ টাকা ৬৩ পয়সা। পাশাপাশি ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনা হচ্ছে। এ কাজ পেয়েছে চট্টগ্রামের পায়েল অটোমেটিক ফুড প্রসেসিং মিলস। প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম পড়বে ৭১ টাকা ৮৭ পয়সা। এতে মোট ব্যয় হবে ৭১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
জ্বালানি ও খাদ্যপণ্য ছাড়া ১৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ এবং ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ ফোক আর্ট অ্যান্ড ক্রাফটস ফাউন্ডেশনের নির্মাণকাজের দুটি প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে ইপিআই কর্মসূচিতে ব্যবহৃত টিকা সরাসরি পদ্ধতিতে কেনার একটি প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।

Comments
Comments