[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে চিঠি

প্রকাশঃ
অ+ অ-
সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের চানপুর গ্রামে উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিচ্ছেন রুমিন ফারহানা। রোববার বিকেলে তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টি করে বিচারিক কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুবকর সরকার এ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সিভিল জজ আশরাফুল ইসলামের কাছে চিঠিটি পাঠান।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘উদ্ভূত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে লিখিতভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। গতকাল শনিবার আমরা চিঠিটি পাঠিয়েছি এবং এর অনুলিপি বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামে একটি উঠান বৈঠকে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আচরণবিধি প্রতিপালনে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। পরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জুয়েল মিয়া নামে রুমিন ফারহানার এক অনুসারী জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও বিচারিক কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ওই চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বারবার বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেন এবং আঙুল উঁচিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। তিনি ইংরেজিতে আক্রমণাত্মক ভাষায় সতর্ক করে বলতে থাকেন, ‘দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম, আই ওয়ার্নিং ইউ, আই উইল নট লিসেন টু দিজ। আপনি পারলে থামাই দেন, আজকে ভদ্রতা দেখাচ্ছি, নেক্সট টাইম কিন্তু এই ভদ্রতা করব না...।’ একপর্যায়ে তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি উপস্থিত জনতার দিকে ইঙ্গিত করে হুমকি দিতে থাকেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, রুমিন ফারহানা জনগণকে উত্তেজিত করে ‘মব’ তৈরি করেন এবং বলেন, ‘আজকে আমি আঙুল তুলে বলে দিলাম, আমার এই মানুষ, এখান থেকে বাইরে হইতে পারবেন না।’ একপর্যায়ে তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বলেন, ‘আমি যদি না বলি, এখান থেকে বাইরে যেতে পারবেন না, মাথায় রাখবেন। আজকে আমি আঙুল তুলে বলে দিলাম। ভবিষ্যতে শুনব না।’ এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা জুয়েল মিয়াসহ অন্যান্যরা আক্রমণাত্মক আচরণ দেখান। এতে ‘মব’ সৃষ্টি হয়, বিচারিক কাজে বাধা পড়ে এবং দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হুমকির মুখে পড়েন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগেও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে রুমিন ফারহানার একজন সমর্থককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন।

সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে মাঠে ছিলেন। কিন্তু আসনটিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক, জামিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে জোটের প্রার্থী করা হয়। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় গত ৩০ ডিসেম্বর তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা যদি দৃঢ়ভাবে একটি দলকে জেতানোর চেষ্টা করেন এবং এই প্রক্রিয়ায় অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী, যাঁর জয়লাভের সম্ভাবনা আছে, তাকে নানাভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন, তাহলে তো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে না। ’১৪, ’১৮ ও ’২৪ সালের মতো নির্বাচন শেখ হাসিনার সময়ে হয়েছে, এখনও মনে হচ্ছে সেই রকম হওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন