আওয়ামী লীগের নিরপরাধ সমর্থনকারীদের পাশে থাকবে বিএনপি: মির্জা ফখরুল
![]() |
| ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোলানি বাজারে নির্বাচনীসভায় বক্তব্য দেন ঠাকুনগাঁও–১ আসনের প্রার্থী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার বিকেলে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এবার তো নৌকা নাই, নৌকা পালাইছে। হাসিনা ভারতবর্ষে চলে গেছে। মাঝখানে তার যে সমর্থক আছে, তাদের বিপদে ফেলে গেছে। আমরা সেই বিপদে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আওয়ামী লীগের নিরপরাধ সমর্থনকারীদের পাশে থাকবে বিএনপি।’
বুধবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও–১ আসনের রায়পুর ইউনিয়নের মোলানী বাজার এলাকায় এক পথসভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। এদিন তিনি রায়পুর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় পথসভা করেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলছি, হিন্দু ভাই–বোনদের, আপনারা কোনো চিন্তা করবেন না। আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে। যাঁরা অন্যায় করছেন, তাঁদের শাস্তি হবে। আর যাঁরা অন্যায় করেননি, সাধারণ মানুষ, তাঁদের আমরা বুকের মধ্যে রেখে দেব, আগলে রাখব।’
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আর মাত্র ১৫ দিন পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। আপনাদের মনে আছে, এর আগে আমরা এমপি নির্বাচন করেছি ১৫ বছর আগে। মাঝখানে আমরা কোনো ভোট দিতে পারিনি। সব ভোট নিয়ে গেছে ওরা। কারা? ফ্যাসিস্ট হাসিনার লোকেরা, পুলিশ ও প্রশাসন। এবার সঠিক একটা ভোট হবে বলে আমরা আশা করছি। অর্থাৎ যাঁর ভোট তিনি দিতে পারবেন, যাঁকে খুশি তাঁকে দিতে পারবেন।’
বর্তমান পরিস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা ভালো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন একটু স্বস্তিতে আছি, আরামে আছি। তবে পুরোপুরি আরামে নেই। জিনিসপত্রের দাম খুব বেড়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনে হয় আগের চেয়ে কিছুটা ভালো হয়েছে। সব মিলিয়ে এমন একটা সময় এসেছে, যখন আমরা শান্তিতে রাতে ঘুমাতে পারছি। যদি নির্বাচন হয়, আমরা সবাই যদি ভোট দিতে পারি এবং একটি সরকার নির্বাচন করতে পারি, তাহলে আমরা ভালো থাকব বলে আশা করি।’
একই ইউনিয়নের ছেপড়িকুড়া এলাকার পথসভায় জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘খবরের কাগজ খুলে দেখি আমাদের আরেকটি দল, যারা আগে আমাদের সঙ্গেই ছিল। ১৯৯১ সালে আমাদের সঙ্গে ছিল না, আমাদের সঙ্গে এসেছে ২০০১ সালে। ২০০১ সালে আমাদের সরকারে তারা ছিল, তাদের দুজন মন্ত্রীও ছিলেন—নিজামী সাহেব ও মুজাহিদ সাহেব। সরকারে তারা আমাদের সঙ্গেই ছিল। এখন তারা বলছে, আমরা নাকি ওই সময় দুর্নীতি করেছি। তাহলে তুমি কি ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির ছিলে? ওই সরকারে তো তুমিও ছিলে। তাহলে ওই দায় তোমার ঘাড়েও তো পড়ে। দুর্নীতির ভাগ তোমাকেও নিতে হবে। নিতে হবে কি না বলেন? আমরা কোনো দুর্নীতি করিনি। আমরা সেই সময় দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছি।’

Comments
Comments