উঠান বৈঠকে বাধা নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে রুমিন ফারহানার তর্ক
![]() |
| নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাগবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে | ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত |
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর একাংশ) আসনে উঠান বৈঠকে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আচরণবিধি প্রতিপালনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ (গুগদ) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রুমিন ফারহানার অনুসারী জুয়েল মিয়া জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন।
উপজেলা প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকেলে ইসলামাবাদ গ্রামে উঠান বৈঠক করছিলেন রুমিন ফারহানা। তিনি বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে নিয়ে সেখানে পৌঁছান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার হাসান খান। এ সময় বৈঠকস্থলের পাশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে রুমিন ফারহানার তর্ক শুরু হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উদ্দেশে রুমিন ফারহানাকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি পারলে থামাই দেন। আজকে আপনাকে ভদ্রতার সঙ্গে বলছি। নেক্সট টাইম কিন্তু ভদ্রতা দেখাব না।’ এ সময় পাশে থাকা এক ব্যক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি উঁচিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘আপনাদের তারা বুইড়া আঙুল দেখায়, আপনারা কিছুই করতে পারেন না।’ তখন রুমিন ফারহানাও বৃদ্ধাঙ্গুলি উঁচিয়ে বলেন, ‘আপনাদের তারা এই রকম দেখায়।’
ভিডিওতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বলতে শোনা যায়, ‘কে এমন করে?’ জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘খোঁজ নেন, প্রশাসনে বইসা আছেন। আমি যদি না বলি, এখান থেকে বাইর হইতে পারবেন না। এক্সকিউজ মি স্যার, দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম, আই ওয়ার্নিং ইউ।’ তখন ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আচরণবিধি ভঙ্গ হলে আমাদের তো আসতে হবেই।’ উত্তরে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সব জায়গাতেই হচ্ছে। আপনারা কিছুই করতে পারেন না।’ এ সময় তাঁর অনুসারীরা ‘ঠিক, ঠিক’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।
এর আগে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলমগীর খাঁর বিরুদ্ধে গত ১৩ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আচরণবিধি ভঙ্গের লিখিত অভিযোগ দেন রুমিন ফারহানা। পরদিন এক সমাবেশে হাবিবুর রহমান ওই অভিযোগের জবাবে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখান।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার প্রতিপক্ষের জোটের প্রার্থী ও তাঁর লোকজন প্রতিদিন স্টেজ করে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে আইন ভঙ্গ করছে। আমাকে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিস্যু পেপার বলছে, নর্তকী বলছে। আমি এসব বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছি। এর জবাবে তারা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। আমি বিষয়টি ম্যাজিস্ট্রেটকে স্যার সম্বোধন করে বলেছি। তারা, অর্থাৎ প্রশাসন, আমার প্রতিটি উঠান বৈঠকে আইনের অপপ্রয়োগ করছে। আমি একটি হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করি, কোনো স্টেজ করি না। এরপরও প্রতিদিন বাধা দেওয়া হচ্ছে, জরিমানা করা হচ্ছে। আজ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর আগেও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না।’
সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু বকর সরকার বলেন, ‘আচরণবিধি ভঙ্গ করায় তাঁকে, অর্থাৎ রুমিন ফারহানাকে, অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আইন সবার জন্য সমান। আমরা আশা করি, সবাই আইন মেনে চলবেন। তাঁর যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তিনি অভিযোগ দিতে পারেন।’
সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। তবে আসনটিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় গত ৩০ ডিসেম্বর তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

Comments
Comments